ফিফা বয়কটের হুমকি থেকে সরে আসছে উয়েফা
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোর ব্যর্থ বিশ্বকাপ বিক্রি সংক্রান্ত পরিকল্পনাটি আর পুনরুজ্জীবিত হবে না—এমন আশ্বাস পাওয়ার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে।
এ প্রস্তাবের সঙ্গে পরিচিত একজন ব্যক্তি বুধবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ড্র-এর আগে বৃহস্পতিবার মোনাকোতে উয়েফার সদস্য ফেডারেশনগুলো বৈঠকে বসছে, যেখানে তারা এ বয়কটের হুমকি প্রত্যাহার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈঠকের এজেন্ডা গোপনীয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এসব কথা জানান।
বয়কটের সম্ভাবনা নাকচ হওয়ায় পোল্যান্ডে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া 'ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে' ছয়টি ইউরোপীয় দলের অংশগ্রহণের পথ পরিষ্কার হলো।
২৪টি দেশের এই টুর্নামেন্টের জন্য গত সপ্তাহে দল ঘোষণা করেছে ফ্রান্স ও স্পেন। ইনফান্তিনোর ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগকারী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রতিরোধের মুখে টুর্নামেন্টটি অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। ইংল্যান্ড, ইতালি, পর্তুগাল এবং স্বাগতিক পোল্যান্ডও এই টুর্নামেন্টে খেলবে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল এবং সংকেত পাওয়া স্কোয়াডে আর্জেন্টিনাও রয়েছে।
উয়েফার এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে ফুটবলের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে, এমনকি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও। ফিফা পোল্যান্ডে সব দল ও খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে মুখিয়ে আছে।
গত মাসে ইনফান্তিনোর একটি পরিকল্পনার কথা ব্রিটিশ দৈনিক 'দ্য টাইমস'-এ প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে ফুটবল নেতারা ক্ষুব্ধ হন। পরিকল্পনাটি ছিল—ফিফার বিশ্বকাপসহ সমস্ত বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ন্ত্রণকারী ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
এই নতুন প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশের মালিকানা থাকত একদল বিনিয়োগকারীর হাতে, যার নেতৃত্বে ছিল নিউ ইয়র্কের একটি ফান্ড। এটি তৈরি করেছিলেন জোশুয়া কুশনার, যার প্রাথমিক অর্থ থেকে ফিফার ২১১টি সদস্য ফেডারেশনের প্রত্যেককে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। জোশুয়া কুশনার হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। ফিফার সদস্য ফেডারেশনগুলোকে এই প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।
উয়েফার তীব্র বিরোধিতা ও বয়কটের হুমকির মুখে এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ও কনকাকাফ-এর সমর্থনে ফিফা প্রেসিডেন্ট মাত্র চার দিনের মাথায় তার প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করেন। ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও এ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা ও ইনফান্তিনোর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করা হয়।
এরপর উয়েফা আশ্বাস চেয়েছে, 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' নামের এই উদ্যোগটি অন্য কোনো রূপেও ফের উপস্থাপন করা হবে না। সংশ্লিষ্ট ওই সূত্র জানান, উয়েফা এখন সেই আশ্বাস পেয়েছে।
গত ১ আগস্ট ইউরোপীয় ফুটবলের এ সংস্থাটি জানায়, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে পুনরায় বিজয়ী হতে না দেওয়ার এক স্পষ্ট সংকেত ছিল এটি।
অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের পর ইউরোপে পরবর্তী ফিফা প্রতিযোগিতা ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্লে-অফ, যা ৯-১৩ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পরবর্তী পুরুষ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব ২০২৯ সালের আগে শুরু হচ্ছে না।
মরক্কোর রাবাতে ২১১টি সদস্য ফেডারেশনের ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চার মাস আগে, ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীদের আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে ফিফা।
বিনিয়োগকারী পরিকল্পনা নিয়ে এই হট্টগোল শুরু হওয়ার আগে মনে করা হচ্ছিল, ২০৩১ সাল পর্যন্ত চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য ইনফান্তিনো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
অনলাইন কলে এক হয়ে বয়কটের হুমকি দেওয়ার ঠিক চার সপ্তাহ পর, এবার মোনাকোর এ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন উয়েফার ৫৫টি সদস্য ফেডারেশন।
