যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তির সুযোগ দেখছেন পুতিন, কূটনৈতিক পদক্ষেপে ‘নতুন গতিশীলতার’ আশা ইউক্রেনের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শান্তি প্রচেষ্টায় "নতুন গতিশীলতার" আশা করছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে অনুষ্ঠিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেওয়ার সময় পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ একাধিক দেশ একটি শান্তি চুক্তিতে সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, "শেষ পর্যন্ত সংঘাতের সঙ্গে জড়িত দেশ দুটিকেই—অর্থাৎ রাশিয়া ও ইউক্রেনকে এই সংকটের সুরাহা করতে হবে। যাঁরা এই সমঝোতায় অবদান রাখার চেষ্টা করছেন, আমরা তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখানে কি কোনো সম্ভাবনা আছে? আমার মতে, হ্যাঁ, আছে।"
অন্যদিকে কিয়েভে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সাংবাদিকদের বলেন, "আমার বিশ্বাস, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার এই সক্রিয় পর্বটি নতুন করে শুরু হওয়ায়—আমরা এখন শান্তি প্রচেষ্টায় একটি নতুন গতিশীলতা দেখতে পাব।" অবশ্য এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা না দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের "খবরের খোঁজ রাখতে" বলেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধের ময়দানে রূপ নিয়েছে ইউক্রেন। এই যুদ্ধ শুরুর পর উভয় পক্ষ থেকেই শান্তি আলোচনার বিষয়ে এমন ইতিবাচক মূল্যায়ন খুব কমই দেখা গেছে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈঠকে বসেছিল যুদ্ধ লিপ্ত দুই দেশ।
এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধে ব্যস্ত হয়ে পড়ায়—রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বন্দরে পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে বৈরিতা তীব্র আকার ধারণ করে। এতে কৃষ্ণসাগর দিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, যা বিশ্ববাজারে শস্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পুতিনের এই আশাব্যঞ্জক মন্তব্যের পর শিকাগো এক্সচেঞ্জে গমের ফিউচার প্রাইস বা ভবিষ্যৎ বিক্রয়চুক্তির মূল্যসূচক ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
তবে পুতিন বা সিবিহা—কেউই এই অগ্রগতির সম্ভাব্য কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। বরং রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো আলোচনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
এক প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলা এবং বেসামরিক বিমানে হামলার হুমকিগুলো হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শামিল। এর ফলে দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা জটিল হয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এয়ারলাইন ও বিমা কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেন যে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের উপস্থিতির কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তবে তিনি জানান, ইউক্রেন কেবল রাশিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে এবং কোনো বেসামরিক বিমানের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না।
গত বুধবার ইউক্রেন জাতিসংঘের বিমান চলাচল সংস্থাকে (আইসিএও) সদস্য দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার আকাশসীমায় বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া আক্রমণ চালানোর পর থেকে ইউক্রেনের নিজস্ব আকাশসীমাই অনিরাপদ হিসেবে গণ্য হওয়ায়—দেশটি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
@গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রয়েছে: পুতিন
পুতিন নিশ্চিত করেন যে ইউক্রেনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এখনও বজায় রয়েছে।
তিনি বলেন, "ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিবেচনা করলে, এই মুহূর্তে বলা কঠিন যে এসব যোগাযোগ কতটা শান্তি চুক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।"
"কিন্তু যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তা নিয়মিতভাবে চলছে—এবং তা মূলত দুটি দেশের গোয়েন্দা চ্যানেলের মাধ্যমেই হচ্ছে।"
কিয়েভে সিবিহার পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, "ভারত যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারে, আমরা তার জন্য প্রস্তুত।"
এর আগে গত সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুতিনকে ফোনে জানিয়েছিলেন যে, মানবতার স্বার্থেই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটা প্রয়োজন এবং যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো প্রচেষ্টায় নয়াদিল্লি সব ধরনের সমর্থন দেবে।
