সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, অস্ত্রধারীদের ধরতে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। জঙ্গল সলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোধ্যেই তিনজনকে শনাক্ত করেছে জেলা পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছে অস্ত্রধারী দুই যুবক। অপরজন হলো জঙ্গল সলিমপুরে রোকন গ্রুপের প্রধান রোকন উদ্দিন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম টিবিএসকে বলেন, সংঘর্ষের সময় জঙ্গল সলিমপুরের রোকন বাহিনীর প্রধান রোকনকে বুলেটপ্রুফ পোশাক পরিহিত অবস্থায় ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। একইসঙ্গে পাঞ্জাবি ও হাফহাতা টি-শার্ট পরা দুই যুবককেও অস্ত্র হাতে দেখা গেছে।
অভিযানে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের আস্তানা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ ও র্যাব। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আলীনগর ও ছিন্নমূল এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, 'আমরা ইতোমধ্যে রোকনসহ তিনজনকে শনাক্ত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে র্যাবের সহযোগিতাও নেওয়া হয়েছে।'
জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েত কাউসারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সন্দেহজনক বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ রাসেল টিবিএসকে বলেন, 'গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সূত্রে জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের জড়ো হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অভিযান চালিয়েছেন।'
মোহাম্মদ রাসেল, 'আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল যারা সেখানে জড়ো হচ্ছে, তাদের গ্রেপ্তার করা। পাশাপাশি তারা যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি, চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধ করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা।'
তিনি আরও বলেন, 'এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযানে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এখনো এলাকায় কাজ করছে। অন্য দলগুলোও অভিযান চালাচ্ছে।'
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের পর অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিষয়ে গতকাল বিকেলে টিবিএসের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির দুই পক্ষের নেতা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী।
কাজী সালাউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার পক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর অস্ত্রধারীরা হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, '৫০০ থেকে ৭০০ লোক এসেছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে অস্ত্র ছিল।'
হামলায় তার পক্ষের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন দাবি করে সালাউদ্দিন বলেন, 'হামলাকারীদের মধ্যে রোকন ও মুরসালিনের লোকজন ছিলেন।' এ ছাড়া তাদের কয়েকটি কার্যালয় ও স্থাপনায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, আসলাম চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে টিবিএসকে জানান, ঘটনার সময় তিনি কর্মসূচিস্থলে পৌঁছাননি। তার অনুসারীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে–এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই।
আসলাম চৌধুরী বলেন, 'আমার লোকজন বা অনুসারীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে–এমন অভিযোগ আমার জানা নেই। আমি তখনও কর্মসূচিতে পৌঁছাইনি।'
