গুজরাটে ভারতের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্ট নির্মাণে টাটা ইলেকট্রনিক্স ও এএসএমএল-এর চুক্তি
ভারতের নিজস্ব চিপ শিল্প গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করতে শনিবার টাটা ইলেকট্রনিক্স এবং এএসএমএল গুজরাট রাজ্যে দেশটির প্রথম 'ফ্রন্ট-এন্ড' সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্ট নির্মাণের লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
কোম্পানি দুটির একটি যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ডাচ চিপ নির্মাণ সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি গুজরাটে টাটা ইলেকট্রনিক্সের পরিকল্পিত ৩০০ মিলিমিটারের সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্টে কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এএসএমএল-এর সিইও ক্রিস্টোফ ফুকে বলেন, "ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত হতে থাকা সেমিকন্ডাক্টর খাত অনেক আকর্ষণীয় সুযোগের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং আমরা এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টাটা ইলেকট্রনিক্স গুজরাটের ধোলেরায় ১১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে এই প্ল্যান্টটি তৈরি করছে। এর লক্ষ্য হলো স্বয়ংচালিত যান (অটোমোটিভ) এবং মোবাইল ডিভাইস থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী চিপ তৈরি করা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন-এর উপস্থিতিতে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও যোগ করেছে যে, দুই নেতা জ্বালানি, বন্দর এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ডাচ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি ডাচ কোম্পানিগুলোকে সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। একই সাথে উভয় নেতা ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্ট এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদন শিল্পকে আকৃষ্ট করতে ভারত ইতিমধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে আটটি প্রকল্পের কাজ চলছে, যার মধ্যে গুজরাটে টাটা ইলেকট্রনিক্সের ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি স্থাপনাও রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সৃষ্ট রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধের মুখে ডাচ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলো এখন নতুন বাজার এবং ভৌগোলিক বৈচিত্র্যময় গন্তব্যের সন্ধান করছে।
