Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Monday
May 25, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
MONDAY, MAY 25, 2026
এক গাছে ৩০০ প্রজাতির আম ফলিয়েছেন তিনি!

আন্তর্জাতিক

দ্য বেটার ইন্ডিয়া
22 May, 2026, 04:20 pm
Last modified: 22 May, 2026, 06:31 pm

Related News

  • প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে ভারত, প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
  • চীনের সাথে অংশীদারত্বে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা: ভারতে বাড়ছে উদ্বেগ
  • জ্বালানি বেচতে হঠাৎ করেই ভারত সফরে রুবিও
  • ইরান যুদ্ধের মধ্যে ভারতে ৮ দিনে তিনবার বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
  • এবার ভারতের বাইরে তেলাপোকার 'বংশবিস্তার'; পাকিস্তানে আত্মপ্রকাশ করল 'ককরোচ আওয়ামি লিগ', 'ককরোচ আওয়ামি পার্টি' 

এক গাছে ৩০০ প্রজাতির আম ফলিয়েছেন তিনি!

বর্তমানে ৮৪ বছর বয়সী কালীমুল্লাহ খান পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সারা ভারতে তিনি ‘ম্যাঙ্গো ম্যান অব ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত। তার নাম লিমকা বুক অব রেকর্ডসে উঠেছে, আর তার আমবাগান হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত পরীক্ষাগার — যেখানে একটি গাছে রয়েছে ৩৫০টিরও বেশি ভিন্ন জাতের আম।
দ্য বেটার ইন্ডিয়া
22 May, 2026, 04:20 pm
Last modified: 22 May, 2026, 06:31 pm
৮৪ বছর বয়সী কালীমুল্লাহ খান তার আলোচিত এই গাছে বেশ কিছু আমের নাম বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে রেখেছেন। যেমন- ঐশ্বরিয়া রাই এবং নরেন্দ্র মোদি। ছবি: দ্য বেটার ইন্ডিয়া

অভিনব গ্রাফটিং (কলম) পদ্ধতির মাধ্যমে একটি আমগাছে ৩৫০ প্রজাতির আম ফলিয়েছেন ভারতের কালীমুল্লাহ খান। উদ্যানচর্চার প্রতি আজীবনের নিষ্ঠা তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি ও তার বাগানকে করেছে এক আশ্চর্য নিদর্শন।

কালীমুল্লাহ খান কোনোদিনও বিজ্ঞানী হওয়ার কথা ভাবেননি। সপ্তম শ্রেণিতে ফেল করার পর তিনি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে উত্তর প্রদেশের মালিহাবাদে থাকা পারিবারিক আমবাগানে ঘুরে সারাদিন পার করতেন তিনি। তবে তার দাদার মৃত্যুর পর থেকে তিনি পাকাপাকিভাবে পারিবারিক আমবাগানের যত্ন নিতে শুরু করেন। 

তবে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব তিনি পুষিয়ে নিয়েছিলেন সহজাত বুদ্ধি আর তার অসাধারণ চিন্তা-ভাবনা দিয়ে। তিনি ভাবলেন একটি গাছেই যদি শত শত ভিন্ন জাতের আম ফলানো যেত?

বর্তমানে ৮৪ বছর বয়সী কালীমুল্লাহ খান পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সারা ভারতে তিনি 'ম্যাঙ্গো ম্যান অব ইন্ডিয়া' নামে পরিচিত। তার নাম লিমকা বুক অব রেকর্ডসে উঠেছে, আর তার আমবাগান হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত পরীক্ষাগার — যেখানে একটি গাছে রয়েছে ৩৫০টিরও বেশি ভিন্ন জাতের আম।

তবে কালীমুল্লাহ খান কখনও তার সাফল্য নিয়ে বেশি কথা বলেন না। তিনি কথা বলেন তার ব্যর্থতা, গ্রাফটিং [কলামের কৌশল], আর গাছের প্রতি তার ভালোবাসা নিয়ে —যা তাকে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে একই ভূমির সঙ্গে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।

দ্য বেটার ইন্ডিয়াকে কালীমুল্লাহ খান বলেন, 'বয়স বেড়ে যাওয়ায় এখন আর বেশি কথা বলার শক্তি আমার নেই, তবে যতটুকু পারি জানানোর চেষ্টা করব। গাছ নিয়ে আমার অনেক কিছু বলার আছে। অসীম ভালবাসায় আমি এই গাছটিকে লালন করেছি, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার সারা জীবনের সব স্মৃতি।'

তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, 'মানুষের উচিত আমার বাগানে এসে এই গাছটা দেখা, আর বোঝার চেষ্টা করা— এই একটি গাছে প্রতিটি আমের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য কীভাবে এক হয়ে মিশে গেছে।'

আম গাছকে ঘিরে আবর্তিত এক জীবন

কালীমুল্লাহ খানের উদ্ভাবনী কলমকরণ পদ্ধতি তাকে এনে দিয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। শতাব্দী প্রাচীন এই কৃষি প্রযুক্তিতে একটি গাছের ডাল অন্য একটি গাছের সঙ্গে জোড়া লাগানো হয়।

বহু বছরের গবেষণা ও শ্রমের ফলে তিনি সৃষ্টি করেছেন এমন এক আমগাছ, যাতে ফলেছে ৩৫০টি ভিন্ন জাতের আম।

তবে ভারতের অন্যতম বিখ্যাত উদ্যানতত্ত্ববিদ হয়ে ওঠা সহজ ছিল না। বাধা, ব্যর্থতা এবং বারবার নতুন করে শুরু করার মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে তার যাত্রাপথ। আমগাছের মাঝেই তিনি খুঁজে পান জীবনের প্রকৃত আহ্বান।

ছবি: দ্য বেটার ইন্ডিয়া

স্মৃতিচারণ করে কালীমুল্লাহ খান বলেন, 'আমি কখনোই পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলাম না। কিন্তু যখন বাগানে কাজ শুরু করলাম, তখন বুঝতে পারলাম—যেই কাজে আমার আগ্রহ আছে, তাতে আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করতে পারি।'

১৯৫৭ সালে তার মাথায় হঠাৎ একটি চিন্তা আসে। সেই ভাবনা থেকেই তিনি উদ্যোগ নেন এমন একটি গাছ লাগানোর, যেখানে সাত ধরনের আম ধরবে। তার পরিবারের কেউ এমন গাছের কথা কখনো কল্পনাও করেননি।

কিন্তু প্রকৃতির ছিল ভিন্ন পরিকল্পনা—সে বছর ভয়াবহ বন্যায় গাছটি নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি বলেন, 'ওই একটি ঘটনাই আমাকে শিখিয়েছে বন্যার সময় কীভাবে মাটির যত্ন নিতে হয়।'

তবে বাধার মুখেও দমে যাননি কালীমুল্লাহ খান; বরং ব্যর্থতা তাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি কলমকরণ পদ্ধতির ব্যাপারে নানা গবেষণা করেন এবং এর নানা দিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

১৯৮৭ সালে ২২ একর বিস্তৃত একটি বাগানে তিনি বিভিন্ন জাতের আম কলমকরণ শুরু করেন। এখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ উদ্ভাবনী যাত্রা।

কালীমুল্লাহ খান গর্বের সঙ্গে বলেন, 'এই গাছটি এখন প্রায় ১২৫ বছরের পুরোনো। এটি আমার দাদার লাগানো। এখনও এটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, আর ধারণ করছে বিভিন্ন প্রজাতির আম।'

কীভাবে একটি গাছে ৩৫০ জাতের আম ধরে?

এর পেছনে রয়েছে অসাধারণ ধৈর্য, দক্ষতা ও বছরব্যাপী গবেষণা। কালীমুল্লাহ খান ধাপে ধাপে বিভিন্ন আমগাছের ডাল সংগ্রহ করে তার ঐতিহাসিক গাছে কলম করেছেন। প্রতি বছর নির্দিষ্ট মৌসুমে তিনি গাছের একেক শাখায় বিভিন্ন জাতের ডাল জোড়া লাগিয়েছেন।

বছর গড়িয়ে যেতে থাকে, আর কালীমুল্লাহ খানও আমচাষে একের পর এক সম্ভাবনার সীমানা পেরিয়ে যান। তার নিরলস আগ্রহ ও শ্রম এক সময় জন্ম দেয় এক বিস্ময়কর সৃষ্টির—একটি গাছে ৩০০-রও বেশি জাতের আম; যার প্রতিটিই স্বাদ, রঙ ও গন্ধে একটা আরেকটার থেকে ভিন্ন।

এই সাফল্যের মূলে শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং প্রতিটি কলমের পেছনে থাকা নীরব অধ্যবসায়ই তাকে অনন্য করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ''জানি না আমি জীবনে কত গাছ লাগিয়েছি। এই জ্ঞান যেন আমার মধ্যে জন্মগতভাবেই আছে। অনেকে আমাকে 'স্বশিক্ষিত বিজ্ঞানী' বলেন, কিন্তু আসলে গাছই ছিল আমার শিক্ষক।''

কালীমুল্লাহ খানের ছেলের নাম নাজিমুল্লাহ খান (৫৭), তিনিও প্রায় তিন দশক ধরে এই আমবাগানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

নাজিমুল্লাহ স্মৃতিচারণ করেন, 'আমি বুঝতে পারছিলাম আব্বার শরীর ভালো নেই। এদিকে বাগানেও প্রচুর কাজ জমে আছে, তাই আমি তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিই।'

বাবাকে সাহায্য করতে যে কাজ শুরু করেছিলেন, ধীরে ধীরে তা প্রাত্যাহিক দায়িত্বে পরিণত হয়। এই দায়িত্ব পালন করতে করতেই তার মনে জন্ম নেয় গাছের প্রতি গভীর ভালোবাসা।

তিনি বলেন, 'দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পর আমি এই কাজটায় আসক্ত হয়ে পড়ি। গাছের যত্ন নেওয়া তখন আর কঠিন মনে হতো না।'

পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরা নাজিমুল্লাহর জন্য সহজ ছিল না, বিশেষ করে যখন সেই বাগান কালীমুল্লাহ খানের অভিনব আমচাষ পদ্ধতির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু নাজিমুল্লাহ প্রমাণ করেছেন—বাবার স্বপ্ন ও কর্মযজ্ঞকে অকুণ্ঠ নিষ্ঠা ও ভালোবাসায় তিনি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

তিনি বলেন, 'আম চাষে সময় লাগে, গবেষণা লাগে, পরিশ্রম লাগে। রাতারাতি এর ফল পাওয়া যায় না।'

তিনি আরও বলেন, 'একটা মাত্র সংকর (হাইব্রিড) জাত তৈরিতেই ১০ বছর লেগে যেতে পারে। আমার আব্বার বিখ্যাত 'দশেরি কালীম' আম ফলাতে আমাদের ১২ বছর লেগেছিল।'

কলমকরণ: এক নিখুঁত ও ধৈর্যের শিল্প

যে বিষয়টি কালীমুল্লাহ খানের আমবাগানকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে, তা হলো—কলমকরণ পদ্ধতির সূক্ষ্ম ও সৃজনশীল প্রয়োগ। এই কৌশলে বিভিন্ন জাতের আমগাছের ডাল একটি মূলগাছের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর ফলে প্রতিটি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই, এক গাছেই বিভিন্ন জাতের আম জন্ম নিতে পারে। এই কাজের জন্য যেমন নৈপূণ্য দরকার, তেমনি দরকার অসীম ধৈর্য।

যে গাছটি নিয়ে এত আলোচনা, সেটি প্রায় ৯ মিটার উঁচু এক দৈত্যাকৃতি গাছ।

কালীমুল্লাহ খান বলেন, 'কলমকরণ একধরনের শিল্প। এটা এক ধরনের ধাঁধা সমাধান করার মতো। সঠিক জাত বেছে নিতে হয়, সেগুলোকে সাবধানে সংযুক্ত করতে হয়, আর বছরের পর বছর যত্ন নিতে হয়—তবেই গিয়ে দেখা মেলে পরিশ্রমের ফল।'

এই প্রক্রিয়া শুরু হয় একটি সুস্থ শিকড়যুক্ত গাছ বাছাই দিয়ে। এজন্য একটি তরুণ আম গাছ খুঁজে বের করতে হবে, যার শিকড়ের গঠন শক্তিশালী। এরপর উদ্যানবিদ বিভিন্ন আমের জাত থেকে ডাল কেটে তা সেই মূল গাছের সঙ্গে জোড়া লাগান।

ছবি: দ্য বেটার ইন্ডিয়া

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কলম করা অংশগুলো একত্রে মিশে যায় এবং বিভিন্ন জাত এক গাছেই একসঙ্গে বেড়ে ওঠে।

নাজিমুল্লাহ বলেন, 'এটা শুধু বিভিন্ন জাত কলম করে জোড়া লাগানোর বিষয় না, নিশ্চিত করতে হয় যে, এই জাতগুলো পরস্পরের সঙ্গে বেড়ে ওঠার উপযুক্ত এবং প্রতিটি জাতের বেড়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। এর ফলে এমন একটি গাছ তৈরি হয়, যাতে একটিমাত্র শিকড়ের মাধ্যমে নানা স্বাদের, আকৃতির ও রঙের আম উৎপন্ন হয়।'

যেসব আমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা গল্প

গাছটিতে যে কয়েকটি পরিচিত জাতের আম রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে আলফানসো, ল্যাংড়া, কেশর, দশেরি এবং চৌসা। এমনকি বাবা-ছেলের তৈরি কিছু হাইব্রিড জাতও রয়েছে, যেমন 'দশেরি কালীম'—যা দশেরি ও সিদুঁরি জাতের সংকর। কিছু আমের অনন্য নামের মধ্য দিয়ে চারপাশের জগতের সঙ্গে কালীমুল্লাহর খানের সংযোগের প্রতিফলন ঘটে। যেমন—জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নামে রাখা আম, 'অমিতাভ বচ্চন', এটি একটি লম্বা তোতাপুরি জাতের আম, আর 'নরেন্দ্র মোদি', এই আম পাকার আগেই কমলা রঙ ধারণ করে। এছাড়াও এই গাছে কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার 'শচিন তেন্ডুলকার' -্এর নামেও একটি আম আছে।

প্রতিটি আমেরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য—আকার, রঙ, স্বাদ ও গঠনগত পার্থক্য। কোনো আম ছোট, কোনোটা বড়, কোনোটা টক, আবার কোনোটা মিষ্টি।

৮৪ বছর বয়সী এই উদ্যানতত্ত্ববিদ বলেন, 'আমি এই আমগুলোর নাম তাদের নামে রেখেছি, যারা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে বা যাদের কোনো বিশেষ গুরুত্ব আছে।'

তার প্রিয় দুটি জাত হলো 'আনারকলি' ও 'ঐশ্বরিয়া রাই'। দুটি জাতই অনন্য হাইব্রিড, যা বিখ্যাত আলফানসো আমের গাছে কলম করে তৈরি করা হয়েছে। আলফোনসো আমগাছটি এইসব জাতের মাতৃগাছ হিসেবে কাজ করছে।

এমন একটি অসাধারণ গাছ ও ২২ একরজুড়ে বিস্তৃত পুরো বাগান রক্ষণাবেক্ষণ করা সবসময় সহজ নয়। আগে তার বাবা এই দায়িত্ব পালন করতেন, কিন্তু এখন নাজিমুল্লাহ যত্নসহকারে গাছটির দেখভাল করেন—আবহাওয়ার অবস্থা নজরে রাখেন, পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকান এবং গাছে সঠিক পরিমাণে পানি দেওয়া নিশ্চিত করেন।

নাজিমুল্লাহ বলেন, 'আমের আকার বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে। বৃষ্টি কম হলে আম ছোট হয়। তাই গাছ যেন পর্যাপ্ত পানি পায় তা নিশ্চিত করতে হয়। আবার অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে আমে ছত্রাক ধরার ঝুঁকি থাকে, সেটাও আমাদের খেয়াল রাখতে হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'যদি কোথাও পানি জমে, তখন আমরা মেশিন ব্যবহার করে তা অপসারণ করি বা বাড়তি মাটি দিয়ে পানি জমা আটকাই। গাছটিকে নিয়মিত ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ছিটাতে হয়।'

আমের জাত: পুরো ভারতের আমের স্বাদ যেন এক গাছেই

বর্তমানে বাগানের মূল তত্ত্বাবধানে থাকা নাজিমুল্লাহ জানান, তারা ভারতের নানা প্রান্ত থেকে আমের জাত সংগ্রহ করেন।

তিনি বলেন, 'মানুষ আমাদের তাদের শহর থেকে আমের বীজ পাঠায়। আবার কখনও কখনও আমরা নিজেরাই সেই জায়গাগুলোতে গিয়ে বীজ সংগ্রহ করি। আমরা চেষ্টা করি এমন জাত নিতে, যেগুলো মানের জন্য সুপরিচিত।'

তারা যেসব শহর থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তার মধ্যে রয়েছে—মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, পুনে ও ভোপাল।

এই গাছটিতে রয়েছে ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু আম, যার প্রতিটিরই স্বতন্ত্র স্বাদ ও গঠন রয়েছে। আলফানসো বিখ্যাত এর ঘন, মিষ্টি স্বাদ ও মসৃণ, মাখনের মতো গঠনের জন্য। কেশর; এক ধরনের সুগন্ধি জাত, যার স্বাদে হালকা টকভাব থাকে—এটি বাগানের অন্যতম জনপ্রিয় একটি আম।

দশেরির সুখ্যাতি এর রসালো মিষ্টি শাঁস ও স্বতন্ত্র টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য, আর চৌসা বিখ্যাত এর সুবাস, মিষ্টতা এবং ঘন শাঁসের কারণে। ল্যাংড়া; যার স্বতন্ত্র সবুজ রং, আশহীন শাঁস এবং অতুলনীয় মিষ্টতার জন্য পরিচিত।

নাজিমুল্লাহ জানান, এই সব জাতের অনেকগুলো বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হলেও, প্রধান গাছের আমগুলো আলাদাভাবে যত্নে রাখা হয়।

'আমার গাছ দেখতে দুবাই ও ইরান থেকে কৃষকরা আসেন'

শুধু ভারতে নয়, এই গাছ আন্তর্জাতিক গবেষকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

কালীমুল্লাহ খান গর্বের সঙ্গে বলেন, 'ইরান ও দুবাই থেকে কৃষক ও গবেষকরা আমার গাছ দেখতে আসেন, গ্রাফটিং শেখার জন্য।'

তিনি তার আমবাগানকে কঠোর পরিশ্রম, উদ্ভাবন ও ভালোবাসার জায়গা বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, 'সবসময় আমার হৃদয়ে আম রয়েছে। যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তবে মরুভূমির মাটিও আমের মিষ্টি স্বাদ পাবে।'

বাগানে যেসব গাছকে তিনি বছরের পর বছর যত্ন করে বড় করেছেন, তাদের মাঝেই ৮৪ বছর বয়সী এই মানুষটি ফিরে পান তার এক জীবনের কঠোর পরিশ্রম, উদ্ভাবন আর ভালোবাসা।

তিনি বলেন, 'আমি আমের সঙ্গে বাঁচি, আর এটা সবসময় আমার হৃদয়ে থাকে। যদি সুযোগ দেওয়া হয়, মরুভূমিও আমের মিষ্টতা অনুভব করতে পারবে।'

এই ধৈর্য, ভালোবাসা আর সময় নিয়ে গড়ে ওঠা উত্তরাধিকারের কথা উল্লেখ করে কালীমুল্লাহ বলেন, 'আম ও মানুষের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের; যেখানে ভালোবাসা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমি আমার জীবন এই গাছগুলোর সঙ্গে কাটিয়েছি। আর যখন আমার শেষ সময় আসবে, আমি চাই ওদের পাশেই চিরনিদ্রায় শুতে, কারণ ওরা সবসময়ই আমার অস্তিত্বের অংশ ছিল।'

Related Topics

টপ নিউজ

আম / ভারত / ৩৫০ প্রজাতি / ম্যাঙ্গো ম্যান

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • প্রতীকী ফাইল ছবি: রয়টার্স
    জুলাইয়ে বাজারে আসছে দেশে তৈরি প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি
  • স্বপ্না আক্তার। ছবি: টিবিএস
    রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যায় সহযোগী ছিল সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না, ডেকে এনেছিল ফ্ল্যাটের ভেতরে: অভিযোগপত্রে পুলিশ
  • আলবার্টার অধিবাসীরা ১৯ অক্টোবর ভোট দিয়ে ঠিক করবেন যে তারা কানাডার অংশ থাকতে চান কিনা। ছবি: এএফপি
    কানাডা থেকে স্বাধীন হয়ে যেতে চায় আলবার্টা প্রদেশ, গণভোটের আয়োজন
  • এম জুবায়দুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
    ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ
  • ছবি: রয়টার্স
    ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের কাছাকাছি ট্রাম্প; যা আছে এতে
  • ছবি: এআই জেনারেটেড/ককরোচ জনতা পার্টি
    ‘তেলাপোকারা মরে না’: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট বন্ধ, নতুন সাইট আনছেন প্রতিষ্ঠাতা দিপক

Related News

  • প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে ভারত, প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
  • চীনের সাথে অংশীদারত্বে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা: ভারতে বাড়ছে উদ্বেগ
  • জ্বালানি বেচতে হঠাৎ করেই ভারত সফরে রুবিও
  • ইরান যুদ্ধের মধ্যে ভারতে ৮ দিনে তিনবার বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
  • এবার ভারতের বাইরে তেলাপোকার 'বংশবিস্তার'; পাকিস্তানে আত্মপ্রকাশ করল 'ককরোচ আওয়ামি লিগ', 'ককরোচ আওয়ামি পার্টি' 

Most Read

1
প্রতীকী ফাইল ছবি: রয়টার্স
বাংলাদেশ

জুলাইয়ে বাজারে আসছে দেশে তৈরি প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি

2
স্বপ্না আক্তার। ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যায় সহযোগী ছিল সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না, ডেকে এনেছিল ফ্ল্যাটের ভেতরে: অভিযোগপত্রে পুলিশ

3
আলবার্টার অধিবাসীরা ১৯ অক্টোবর ভোট দিয়ে ঠিক করবেন যে তারা কানাডার অংশ থাকতে চান কিনা। ছবি: এএফপি
আন্তর্জাতিক

কানাডা থেকে স্বাধীন হয়ে যেতে চায় আলবার্টা প্রদেশ, গণভোটের আয়োজন

4
এম জুবায়দুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ

5
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের কাছাকাছি ট্রাম্প; যা আছে এতে

6
ছবি: এআই জেনারেটেড/ককরোচ জনতা পার্টি
আন্তর্জাতিক

‘তেলাপোকারা মরে না’: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট বন্ধ, নতুন সাইট আনছেন প্রতিষ্ঠাতা দিপক

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net