ঢাকার আগারগাঁওয়ে যাত্রা শুরু করল ‘প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর’
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে যাত্রা শুরু করলো 'প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর'। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এ জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় স্থাপন করা এই জাদুঘরে বাংলাদেশের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নবস্তু প্রদর্শন করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে পাথর ও ধাতব সরঞ্জাম, বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলিম শাসনামলের ভাস্কর্য, টেরাকোটা ফলক, নকশাঙ্কিত ইট, মৃৎপাত্র ও অলংকার।
এছাড়া প্রাচীন মুদ্রা, শিলালিপির প্রতিরূপ, ঔপনিবেশিক সময়ের নিদর্শন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল সম্পর্কিত তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে।
আধুনিক আলোকসজ্জা ও ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে জাদুঘরের প্রদর্শনীগুলো দর্শনার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করে তোলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই জাদুঘর দেশি-বিদেশি দর্শক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ ও গবেষণায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানায়, ২০০৬ সালে আগারগাঁওয়ের প্রত্নভবনে তাদের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হয়। ভবনের নকশায় শুরু থেকেই তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় জাদুঘর বা ডিসপ্লে সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।
তবে ২০০৯ সালে ওই স্থান তথ্য কমিশনের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০২২ সালে তথ্য কমিশন নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হলে পুনরায় সেখানে জাদুঘর স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়।
পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কারিগরি সহায়তায় আধুনিক এই জাদুঘর নির্মাণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম, অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সেখ কামাল হোসেনসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
