ভারতের তৃতীয় তেজাস বিমান বিধ্বস্ত, পুরো বহরের উড্ডয়ন স্থগিত
চলতি মাসের শুরুতে ভারতের একটি বিমানঘাঁটিতে রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট তেজাস। ব্রেক ফেল বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা পিটিআইকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্ররা।
এই দুর্ঘটনার পর আইএএফ তাদের প্রায় ৩০টি এক আসনের তেজাস যুদ্ধবিমানের পুরো বহরের উড্ডয়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি বিমানের কারিগরি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
সূত্র পিটিআইকে জানিয়েছে, সম্ভবত ব্রেক ফেল বা অনবোর্ড সিস্টেমের ত্রুটির কারণে বিমানটির এয়ারফ্রেমে বা কাঠামোতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তবে পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট বা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন এবং তিনি গুরুতর আহত হননি। গত ৭ ফেব্রুয়ারি রুটিন প্রশিক্ষণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তৃতীয় দুর্ঘটনা
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজাস যুদ্ধবিমানের এটি তৃতীয় দুর্ঘটনা। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের মার্চে জয়সলমীরের কাছে। সেবারও পাইলট নিরাপদে বের হতে পেরেছিলেন।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুবাই এয়ারশোতে। আকাশপথে কসরত দেখানোর সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং পাইলট নিহত হন। নভেম্বরের ওই দুর্ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।
তেজাস এমকে-১এ কর্মসূচিতে বিলম্বের মধ্যেই নতুন এই দুর্ঘটনা ঘটল। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (হ্যাল) উন্নত সংস্করণের এই যুদ্ধবিমান সরবরাহে একাধিক সময়সীমা মিস করেছে। মূলত জিই অ্যারোস্পেস সময়মতো ইঞ্জিন সরবরাহ করতে না পারায় এই দেরি হচ্ছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হ্যাল-এর সঙ্গে ৮৩টি তেজাস এমকে-১এ বিমান কেনার জন্য ৪৮ হাজার কোটি রুপির চুক্তি করে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আরও ৯৭টি বিমানের জন্য ৬২ হাজার ৩৭০ কোটি রুপির চুক্তি হয়। মোট ১৮০টি এমকে-১এ বিমানের অর্ডার থাকলেও সরবরাহ প্রায় দুই বছর পিছিয়ে আছে।
তেজাসের সক্ষমতা
তেজাস একটি এক ইঞ্জিনের মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান। এটি আকাশ প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নজরদারি এবং স্ট্রাইক বা হামলার মিশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ) এটি তৈরি করেছে এবং এটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম।
সর্বশেষ দুর্ঘটনা নিয়ে আইএএফ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
