শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমনের’ ভারতীয় আধার কার্ড ডেমো নম্বরে তৈরি
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে 'ডেভিড ইমনের' কাছ থেকে ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যশোর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি এই পরিচয়পত্রটি সংগ্রহ করেছিলেন।
তবে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) যাচাইয়ে দেখা গেছে, পুলিশের প্রদর্শন করা ওই আধার কার্ডটি কোনো বৈধ পরিচয়পত্র নয়; বরং এতে ব্যবহৃত নম্বরটি ইন্টারনেটে বহুল ব্যবহৃত একটি ডেমো নম্বর।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় দেশে আত্মগোপনে থাকা ডেভিড ইমন যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
পুলিশ সুপার জানান, বিদেশে অবস্থানরত 'বড় সাজ্জাদ'-এর পরামর্শে ইমন এই প্রস্তুতি নেন এবং ভারতীয় অংশে তাকে গ্রহণের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় ইমনের কাছ থেকে উদ্ধার করা আধার কার্ডটিতে তার নাম লেখা ছিল 'আজহার খান' এবং জন্মতারিখ ১২ মে ১৯৯৮। ভারতে প্রবেশের পর নিজের পরিচয় গোপন রাখতেই তিনি এটি সঙ্গে রেখেছিলেন।
এদিকে, টিবিএসের যাচাইয়ে দেখা গেছে, কার্ডটিতে ব্যবহৃত ১২ অঙ্কের আধার নম্বরটি হলো— ১২৩৪৫৬৭৮৯০১২। অনলাইনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি প্রকৃত কোনো নাগরিকের পরিচয় নয়, বরং একটি ডেমো বা নমুনা আধার নম্বর। গুগলে অনুসন্ধান করে একই নম্বর ব্যবহার করা আরও অন্তত তিনটি ডেমো কার্ডের নমুনা পাওয়া গেছে। যার একটিতে 'Rohak K. Gupta' এবং অন্যটিতে চ্যাটজিপিটির উদ্ভাবক 'Sam Altman'-এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। সবগুলোতে একই '১২৩৪৫৬৭৮৯০১২' নম্বর থাকায় এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কার্ডটি সম্পাদিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ রাসেল টিবিএসকে বলেন, 'আধার কার্ডটি ডেভিড ইমনের কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। এটি তদন্তাধীন বিষয়। কার্ডটির সত্যতা ও উৎস আমরা তদন্ত করে দেখছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ভারতে পালানোর উদ্দেশ্যে তিনি এ ধরনের একটি পরিচয়পত্র তৈরি করে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।'
এদিকে, পুলিশ আরও জানায় ডেভিড ইমনকে ঢাকা থেকে যশোর নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইমনকে যাতায়াতে সহায়তা করার অভিযোগে তাকে আটক করা হলেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, নিজেকে আড়াল করতে ডেভিড ইমন তার চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন। আগে তার বড় গোঁফ থাকলেও শনাক্ত হওয়া এড়াতে গ্রেপ্তারের আগে তিনি সম্পূর্ণ ক্লিন শেভ করেন।
