চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে তাকে এবং তার আরও পাঁচ সহযোগীকে পৃথক অভিযানে আটক করা হয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জেলা পুলিশের একাধিক দলের দীর্ঘদিনের নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, 'আমি নিজে ফোর্স নিয়ে অভিযানে অংশ নিয়েছি। বুধবার সকালে ডেভিড ইমনসহ তার আরও পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের নিয়ে যশোর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছি।'
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে ডেভিড ইমনকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের আগে প্রায় সাত দিন ধরে তার গতিবিধির ওপর নিবিড় নজরদারি চালানো হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ডেভিড ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রায়হানকে গ্রেপ্তারের জন্য একই সময়ে পৃথক অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, 'হামলার আগে তাদের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করার পরই হামলার ঘটনা ঘটে।'
ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, ঘটনার দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে 'ডেভিড ইমন' পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তার সঙ্গে কথা বলেন। ফোনে ওই ব্যক্তি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান এখন থেকে ওই চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলবে বলেও জানানো হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আদিল বলেন, ফোনে ওই ব্যক্তি নিজেকে এলাকায় পরিচিত একজন হিসেবে দাবি করেন এবং পুলিশ কমিশনারকে ছবি দেখালেই তাকে চিনতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে নগরের কয়েকটি আলোচিত চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনারও উল্লেখ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে তিনি জানান।
