বিশ্বকাপে নীল ছেড়ে গেরুয়া রঙের জার্সিতে খেলবে ভারতের হকি দল; সমালোচনা
আগামী মাসে নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এফআইএইচ হকি বিশ্বকাপে ভারতের পুরুষ ও নারী দল ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সির বদলে গেরুয়া জার্সি পরে খেলবে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক অধিনায়ক ভিরেন রাসকুইনহা প্রশ্ন তুললেও, প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছে হকি ইন্ডিয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন জার্সি উন্মোচন করে হকি ইন্ডিয়া জানায়, খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে আলোচনা করেই নতুন নকশা ও রং চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, গেরুয়া সাহস, আত্মত্যাগ, বিজয় এবং জাতীয় গৌরবের প্রতীক।
রাসকিনহা এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর হকি ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, 'এটি লক্ষ্য করা গেছে যে ঐতিহ্যবাহী নীল রঙের জার্সিটি আন্তর্জাতিক হকি পিচের বর্তমান প্রমিত রঙ নীল সিন্থেটিক সারফেসের সাথে মিশে যায়। এই দৃশ্যমান সাদৃশ্যের কারণে খেলোয়াড়দের মাঠে পরিষ্কারভাবে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল এবং দৃশ্যমানতা বিঘ্নিত হচ্ছিল।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, '...কোচ ও খেলোয়াড়েরা বিকল্প হিসেবে হলুদ বা গেরুয়া রঙের পরামর্শ দিয়েছিলেন। সতর্ক পর্যালোচনার পর গেরুয়া রঙ চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা পূরণের পাশাপাশি গেরুয়া রঙ আমাদের জাতীয় পতাকার অন্যতম প্রধান রঙ হিসেবে গভীর তাৎপর্য বহন করে, যা সাহস, ত্যাগ ও জাতীয় গর্বের প্রতীক।'
আগামী ১৫ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত হকি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন এই জার্সিতে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে 'মন্ডলা' শিল্পকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত প্যাটার্ন বা নকশা রয়েছে। হকি ইন্ডিয়া জানিয়েছে, জার্সির গাঢ় নেভি ব্লু বর্ডার ও নকশা অশোক চক্র থেকে অনুপ্রাণিত, যা প্রগতি, শান্তি ও একাগ্রতার প্রতীক।
এইচআই আরও জানায়, বুকের অংশের গ্রাফিক্সটি মূলত সুদর্শন চক্রের একটি আধুনিক রূপ, যা 'শক্তি, ঐক্য ও গতিশীলতার' প্রতীক। কাঁধ ও পাশের অংশে তেরঙা পাইপিং রয়েছে, যা 'জাতীয় গর্বকে শক্তিশালী করে'।
ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতে জার্সির সামনের অংশে দেবনাগরী হরফে স্টাইলিশ উপায়ে 'ইন্ডিয়া' শব্দটি লেখা হয়েছে। গেরুয়া রঙের পাশাপাশি ভারতের দুটি দলের কিটে একই ডিজাইনের সাদা রঙের বিকল্প জার্সিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নতুন এই কিট বা জার্সিটিকে 'লজ্জাজনক' বলে অভিহিত করেছেন বীরেন রাসকিনহা।
স্পোর্টস ফাউন্ডেশন 'অলিম্পিক গোল্ড কোয়েস্ট'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসকিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, 'আমাকে বলতেই হবে যে হকি ইন্ডিয়া হকির জন্য অনেক ভালো কাজ করেছে... তবে এটি লজ্জাজনক। ভারতীয় দলের ঐতিহ্য ও পরিচয় সবসময়ই ছিল নীল রঙ। আমি বহু বছর ধরে অত্যন্ত গর্বের সাথে নীল জার্সি গায়ে জড়িয়েছি। ভক্তরা আমাদের ভারতীয় দলকে নীল রঙের জার্সিতেই দেখতে চায়। কমলা বা গেরুয়া রঙের পেছনের যুক্তি কী?'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমার সহজ ও বিনীত প্রশ্নটি মূলত আমাদের গর্ব, ঐতিহ্য ও পরিচয় নিয়ে।'
তবে হকি ইন্ডিয়া নিজেদের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছে যে, জাতীয় দলের জার্সির রঙের পরিবর্তন ভারতীয় হকিতে নতুন কিছু নয় এবং অতীতেও এমনটি ঘটেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, 'এটিও লক্ষ করা যেতে পারে যে জার্সির রঙে পরিবর্তন ভারতীয় হকিতে অভূতপূর্ব কোনো ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময় কাজের সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনে জাতীয় দলের খেলার কিটের রঙ পরিবর্তন করা হয়েছে।'
উদাহরণ দিয়ে সংস্থাটি জানায়, ২০১৪ সালের এফআইএইচ হকি বিশ্বকাপের সময় দলের জার্সির রঙ পরিবর্তন করে হলুদ করা হয়েছিল এবং ২০১৮ সালের হকি বিশ্বকাপের সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন ডিজাইনের আকাশী নীল রঙের জার্সি ব্যবহার করা হয়েছিল।
এইচআই আরও জানায়, 'কোচ ও খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পাওয়া কারিগরি মতামত এবং আমাদের জাতীয় পতাকার অংশ হিসেবে এই রঙের প্রতীকী গুরুত্ব—উভয় দিক বিবেচনা করেই বর্তমান এই গেরুয়া রঙ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।'
