ভারতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব; দেশের সব প্রবেশপথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করল পাকিস্তান
ভারতে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত দুজন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান তাদের সব স্থল, সমুদ্র ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারি জোরদার করেছে। দেশটির বর্ডার হেলথ সার্ভিসেস বিভাগ জানিয়েছে, সীমান্তে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সব প্রবেশপথে যাত্রীদের 'থার্মাল স্ক্রিনিং' ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি গত ২১ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস ও ট্রানজিট তথ্য যাচাই করা হবে, যাতে নিপাহ-প্রবণ বা উচ্চঝুঁকির অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের শনাক্ত করা যায়।
পাকিস্তানের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামও তাদের বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে।
তবে ভারতের এক কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে নিপাহ ভাইরাসের কোনো প্রাদুর্ভাব হয়নি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলায় মাত্র দুটি কেস শনাক্ত হয়েছে এবং তা আর ছড়ায়নি। তাই আপাতত ভারতের বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং চালুর কোনো প্রয়োজন নেই।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত দুজনের সংস্পর্শে আসা ১৯৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের কারও মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি এবং সবার পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রধান জেলা চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমওএইচ) জানান, আক্রান্ত দুজনই স্বাস্থ্যকর্মী। পুরুষ রোগীটি এখন ভালো আছেন এবং শিগগিরই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নারী রোগীর অবস্থা সংকটজনক এবং তিনি চিকিৎসাধীন।
এদিকে, ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ নোই বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের ওপর বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গের দুজন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল।
হ্যানয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তাপমাত্রা মাপার স্ক্যানারের মাধ্যমে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হবে, যাতে দ্রুত আইসোলেশন এবং সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই। গত মে মাসে দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাতের পর থেকে যাতায়াতও অত্যন্ত সীমিত রয়েছে।
নিপাহ একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এটি সাধারণত সংক্রমিত প্রাণী, বিশেষ করে ফলখেকো বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে দীর্ঘ সময় থাকলেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সংস্থাটি একে 'অগ্রাধিকারমূলক প্যাথোজেন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালা রাজ্যে মাঝেমধ্যেই নিপাহ সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। অঞ্চলটিকে বিশ্বের অন্যতম উচ্চঝুঁকির এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মহামারি প্রস্তুতিবিষয়ক জোট 'কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস' (সিইপিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৭৫০ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪১৫ জন। সংস্থাটি বর্তমানে নিপাহ প্রতিরোধে একটি টিকার ট্রায়ালে অর্থায়ন করছে।
