রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা: আসামিকে আইনি সেবা না দেওয়ার ঘোষণা ঢাকা আইনজীবী সমিতির
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার নামে আট বছর বয়সী এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোন সদস্য আইনি সেবা প্রদান করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (২২ মে) ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'কার্যনির্বাহী কমিটি জুম মিটিং শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছি রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে সমিতির কোন সদস্য অংশ নেবে না।'
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া জানান, নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে অত্যন্ত ঘৃণিত ও গুরুতর অপরাধ করেছে। আমরা চাই সমাজে এইসব অপরাধের জন্য জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক। এসব কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কোন আইনজীবী আসামিপক্ষে অংশ নেবেন না।
মামলার নথি সুত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান।
ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (০৮) মরদেহ দেখতে পান।
আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে।
রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়। এরপর রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
