পোস্টাল ব্যালটের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলেই এনআইডি ব্লক: ইসি
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার পর তার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করাসহ আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ভঙ্গ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সময় ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য ভোটারকে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। অঙ্গীকারনামা না দিলে ওই ভোট গণনায় আসবে না।'
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, 'যদি কেউ ভোট দেওয়ার ছবি বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে এবং সেটি শনাক্ত করা যায়, তাহলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।'
ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে প্রবাসী ভোটার ছাড়াও নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিজ ভোটার এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকুরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা 'পোস্টাল ভোট বিডি' (Postal Vote BD) অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারছেন।
ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশের সঠিক ঠিকানা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। প্রয়োজনে বন্ধু, আত্মীয় বা নিকটস্থ সুপরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা ভবনের ঠিকানা ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের পোস্ট দেওয়া বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে ভোটারদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে কমিশন।
এদিকে আজ ইসির এক বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, 'পোস্টাল ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের যেমন অধিকার, তেমনি এটি তার দায়িত্ব। ভোট দেওয়ার তথ্য বা ব্যালটের ছবি ও ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ব্যক্তির এনআইডি ব্লক করাসহ অন্যান্য কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দেওয়ার জন্য মোট ১২ লাখ ৯১ হাজার ৩৫ জন ভোটার সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
