Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Friday
January 23, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
FRIDAY, JANUARY 23, 2026
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ থাকা যাবে; ক্ষমতায় গেলে ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা বিএনপির

বাংলাদেশ

জয়নাল আবেদীন শিশির
19 December, 2022, 03:30 pm
Last modified: 19 December, 2022, 06:44 pm

Related News

  • নির্বাচনি প্রচারণায় পাঁচ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
  • ‘দোষারোপ’, ‘সমালোচনা’ করতে না চেয়েও সেভাবেই প্রচারণা শুরু করল বিএনপি-জামায়াত
  • চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৬: বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই ভোটের লড়াইয়ে বিএনপির ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী
  • কুমিল্লা-১০: হাইকোর্টে বিএনপি প্রার্থী গফুর ভূঁইয়ার রিট খারিজ, প্রার্থিতা বাতিলই থাকছে
  • কৃষি ও অকৃষি জমির মালিকানায় শীর্ষে বিএনপি প্রার্থীরা: টিআইবি

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ থাকা যাবে; ক্ষমতায় গেলে ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা বিএনপির

১০ দফা ঘোষণার পর আজ রাষ্ট্র সংস্কারের ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছে বিএনপি। সকল মত ও পথের সমন্বয়ে ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার জন্য জাতীয় ঐক্যের সরকার, সংবিধান সংস্কার কমিশন, জাতীয় সমঝোতা কমিশন, নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা ইত্যাদি সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণা করেছে দলটি।
জয়নাল আবেদীন শিশির
19 December, 2022, 03:30 pm
Last modified: 19 December, 2022, 06:44 pm

হাইলাইটস

  • জাতীয় ঐক্যের সরকার
  • সংবিধান সংস্কার কমিশন
  • জাতীয় সমঝোতা কমিশন
  • নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  • দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা
  • 'সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল' ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন ও বিচারপতি নিয়োগ আইন
  • প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন
  • মিডিয়া কমিশন
  • অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন
  • ন্যায়পাল নিয়োগ

ক্ষমতায় গেলে দেশের সংবিধান, বিচার বিভাগ ও প্রশাসন কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার আনার কথা উল্লেখ করে সোমবার ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছে বিএনপি। 

১০ দফা ঘোষণার পর আজ রাষ্ট্র সংস্কারের ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণা করলো দলটি। সকল মত ও পথের সমন্বয়ে 'রেইনবো নেশন' গড়ে তোলার জন্য জাতীয় ঐক্যের সরকার, সংবিধান সংস্কার কমিশন, জাতীয় সমঝোতা কমিশন, নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা ইত্যাদি সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণা করেছে বিএনপি। 

সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে টানা দুই মেয়াদের বেশি কারো প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনকে নিষিদ্ধ করার ধারণাও দেয়া হয় বিএনপির পক্ষ থেকে। 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে 'জাতীয় ঐক্য সরকার' গঠনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই ২৭ দফা পাঠ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে বিকাল ৩টায় বিএনপির পক্ষ থেকে এ রূপরেখা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলটি ক্ষমতায় যেতে পারলে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। 

রাষ্ট্র মেরামতের এ ২৭ দফা রূপরেখায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনয়ন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন সংশোধন, জুডিশিয়াল কমিশন গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, মিডিয়া কমিশন, ন্যায়পাল নিয়োগ ইত্যাদি।

এছাড়াও রূপরেখায় যা যা আছে: জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল ও অপ্রয়োজনীয় কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় বন্ধ; বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া; দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করা; ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারগুলোকে অধিকার স্বাধীন ও শক্তিশালী করা, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিচার; ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার মূলনীতির ভিত্তিতে ধর্ম পালনে পূর্ণ অধিকার ও পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান; আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি; নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা প্রণয়ন ও যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান; আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ; শ্রমিকদের মূল্য-সূচকের ওপর ভিত্তি করে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা ও শিশুশ্রম বন্ধ করা; কৃষিপণ্যের নায্যমূল্য নিশ্চিত করা, শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাক্রমকে প্রাধান্যসহ জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ; 'সবার জন্য স্বাস্থ্য' এই নীতির ভিত্তিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন এবং এখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ।

ঘোষিত ২৭ রূপরেখা: 

১. বিগত এক দশকের অধিককালব্যাপী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার হীন উদ্দেশ্যে অনেক অযৌক্তিক মৌলিক সাংবিধানিক সংশোধনী এনেছে। একটি "সংবিধান সংস্কার কমিশন" গঠন করে সকল বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তনসমূহ পর্যালোচনা করে সেসব রহিত/সংশোধন করা হবে এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে। সংবিধানে গণভোট (রেফারেন্ডাম) ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা হবে।

২. প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সকল মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক "রেইনবো নেশন" প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। এই জন্য একটি "জাতীয় সমঝোতা কমিশন" গঠন করা হবে।

৩. বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে একটি "নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার" ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।

৪. অর্থবিল, আস্থা ভোট, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন এবং সংবিধান সংশোধনী বিল ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে।

৫. প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য (চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুসমন্বয় করা হবে।

৬. বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে "দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা" প্রবর্তন করা হবে।

৭. রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত এবং বিশিষ্টজনের অভিমতের ভিত্তিতে স্বাধীন, দক্ষ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে বর্তমান "নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন" সংশোধন করা হবে। ইভিএম নয়, সকল কেন্দ্রে পেপার-ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান নিশ্চিত করা হবে। আরপিও, ডি-লিমিটেশন অর্ডার এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন সংস্কার করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হবে।

৮. সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এই সকল প্রতিষ্ঠান পুনঃগঠন করা হবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে এই সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

৯. বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি "জুডিশিয়াল কমিশন" গঠন করা হবে। জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ চাকরির শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিমকোর্ট দ্বারা পরিচালিত হবে। 

বিচারবিভাগের জন্য সুপ্রিমকোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকবে।সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে বর্ণিত আগের "সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল" ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হবে। এইজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কেবলমাত্র জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করেই বিচারক নিয়োগ দেওয়া হবে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫(গ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ড সম্বলিত "বিচারপতি নিয়োগ আইন" প্রণয়ন করা হবে।

১০. দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিষেবা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে যোগ্য ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি "প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন" গঠন করে প্রশাসন পুনঃগঠন করা হবে। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ এবং বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।

১১. সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে একটি "মিডিয়া কমিশন" গঠন করা হবে। সৎ সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা হবে এবং চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।

১২. দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোন আপোষ করা হবে না। বিগত দেড় দশকব্যাপী সংগঠিত অর্থ-পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং শ্বেতপত্রে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের বাহিরে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী "ন্যায়পাল " নিয়োগ করা হবে।

১৩. সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং অমানবিক নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। হিউম্যান রাইটস চার্টার অনুযায়ী, মানবাধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে। গত দেড় দশক যাবত সংগঠিত সকল বিচারবহির্ভুত হত্যা, ক্রসফায়ারের নামে নির্বিচারে হত্যা, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্মম শারীরিক নির্যাতন, নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তির সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।

১৪. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, কর্পোরেট নেতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি "অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন" গঠন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখে প্রবৃদ্ধির সুফল সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করা হবে।

উপরোক্ত সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, জুডিশিয়াল কমিশন, মিডিয়া কমিশন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনগুলি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ব-স্ব প্রতিবেদন দাখিল করবে যেন সংশ্লিষ্ট সুপারিসসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

১৫. "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার" এই মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। দলমত ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল জাতীগোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার, নাগরিক অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হবে।

১৬. শ্রমজীবী মানুষ এবং চা-বাগান, বস্তি, চরাঞ্চল, হাওড়-বাওর ও মঙ্গাপীড়িত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

১৭. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে এবং অপ্রয়োজনীয় কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হইতে বিদ্যুৎ ক্রয় বন্ধ করা হবে। আমদানি নির্ভরতা পরিহার করে নবায়নযোগ্য ও মিশ্র এনার্জি-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উপেক্ষিত গ্যাস/খনিজ সম্পদ আহরণ/আবিষ্কারে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৮. বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের মধ্যে কোনরকম সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাকে বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়প্রশ্রয় পাবে না। ভিন্নমতের বিরোধী শক্তি দমনে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা এবং সন্ত্রাসবাদের তকমা দিয়ে বিরোধী দল দমনের অপতৎপরতা বন্ধ করা হবে।
 
১৯. দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে। স্বকীয় মর্যাদা বহাল রেখে প্রতিরক্ষাবাহিনীকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে।
 
২০. ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর স্বাধীন, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করা হবে। এই সকল প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে যেন তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। 

স্থানীয় প্রশাসন ও অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির খবরদারী মুক্ত স্বাধীন স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করা হবে এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ বন্ধ করা হবে। আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশবলে সাসপেন্ড/বরখাস্ত/অপসারণ করা হবে না।

২১. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। এই তালিকার ভিত্তিতে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণার্থে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাইবাছাই করে একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

২২. যুবসমাজের ভিশন ও চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। বেকার যুবকদের যথাযথ কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত অথবা ন্যূনতম এক বছর পর্যন্ত (যা আগে ঘটে) বেকার ভাতা দেওয়া হবে। 

যুব-দক্ষতা বৃদ্ধি করে "ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড" আদায়ের লক্ষ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

২৩. নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্ব প্রদান এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২৪. বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদা ভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা-ক্যারিকুলামকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হইবে। জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হইবে।

২৫. "সবার জন্য স্বাস্থ্য" এই নীতির ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার নিমিত্তে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউনিভার্সাল হেলথকেয়ার) প্রবর্তন করা হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

২৬. শ্রমিকদের মূল্যসূচক ভিত্তিক ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে। শিশুশ্রম বন্ধ করা হবে।

২৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বিমা, পশু বিমা, মৎস্য বিমা এবং পোল্ট্রি বিমা চালু করা হবে। কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার বন্ধ করা হবে।
 
 

Related Topics

টপ নিউজ

বিএনপি / রাষ্ট্র সংস্কার রূপরেখা

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: টিবিএস
    ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা বিটিএমএর
  • ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
    এলাকায় ঢুকতে হলে আসামিদের তালিকা দিতে হবে: র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন
  • ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
    ‘বাসায় বললে পাড়া দিয়ে ছিঁড়ে ফেলব’: রাজধানীর শারমিন একাডেমিতে শিশু নির্যাতন
  • ছবি: টিবিএস কোলাজ
    সাভারে ৬ খুনে অভিযুক্ত সবুজের অপরাধের দীর্ঘ তালিকা: উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য
  • মার্কিন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
    যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে আপনারা সবাই এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতেন: ট্রাম্প
  • কোলাজ: টিবিএস
    কূটনীতিকদের পরিবার ‘ফিরিয়ে নিচ্ছে’ ভারত; ঢাকাকে ‘শান্ত ও বাস্তবসম্মত’ পদক্ষেপের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

Related News

  • নির্বাচনি প্রচারণায় পাঁচ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
  • ‘দোষারোপ’, ‘সমালোচনা’ করতে না চেয়েও সেভাবেই প্রচারণা শুরু করল বিএনপি-জামায়াত
  • চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৬: বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই ভোটের লড়াইয়ে বিএনপির ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী
  • কুমিল্লা-১০: হাইকোর্টে বিএনপি প্রার্থী গফুর ভূঁইয়ার রিট খারিজ, প্রার্থিতা বাতিলই থাকছে
  • কৃষি ও অকৃষি জমির মালিকানায় শীর্ষে বিএনপি প্রার্থীরা: টিআইবি

Most Read

1
ছবি: টিবিএস
অর্থনীতি

১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা বিটিএমএর

2
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
বাংলাদেশ

এলাকায় ঢুকতে হলে আসামিদের তালিকা দিতে হবে: র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন

3
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
বাংলাদেশ

‘বাসায় বললে পাড়া দিয়ে ছিঁড়ে ফেলব’: রাজধানীর শারমিন একাডেমিতে শিশু নির্যাতন

4
ছবি: টিবিএস কোলাজ
বাংলাদেশ

সাভারে ৬ খুনে অভিযুক্ত সবুজের অপরাধের দীর্ঘ তালিকা: উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য

5
মার্কিন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে আপনারা সবাই এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতেন: ট্রাম্প

6
কোলাজ: টিবিএস
বাংলাদেশ

কূটনীতিকদের পরিবার ‘ফিরিয়ে নিচ্ছে’ ভারত; ঢাকাকে ‘শান্ত ও বাস্তবসম্মত’ পদক্ষেপের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net