‘বইয়ে ডক্টর স্ট্রেঞ্জ, বাস্তবে শোলের ঠাকুর’—যুদ্ধ থামাতে ‘ব্যর্থ’ জাতিসংঘকে নিয়ে ইরানের ট্রল
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও যুদ্ধ ঠেকাতে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংস্থাটিকে ট্রল করেছে ইরান। মঙ্গলবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনিয়ে একটি মিম প্রকাশ করে।
মিমটিতে মার্ভেল সিনেমার জনপ্রিয় চরিত্র ডক্টর স্ট্রেঞ্জ এবং বলিউডের কালজয়ী সিনেমা 'শোলে'র ঠাকুর বলদেব সিংয়ের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ডক্টর স্ট্রেঞ্জের ছবির সঙ্গে লেখা হয়েছে, 'বইয়ে জাতিসংঘ'। আর দুই হাত হারানো ঠাকুরের ছবির নিচে লেখা হয়েছে, 'বাস্তবে জাতিসংঘ'।
'শোলে' সিনেমায় খলনায়ক গব্বর সিংয়ের হামলায় ঠাকুরের দুই হাত কেটে যায়। ইরানি দূতাবাসের মিমে এই দৃশ্য ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে, পাঠ্যবইয়ে জাতিসংঘকে শক্তিশালী ও বিশ্বসংকট মোকাবিলায় সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে বড় ধরনের যুদ্ধ বা সংঘাত ঠেকাতে সংস্থাটির কার্যকর ক্ষমতা নেই।
জাতিসংঘ নিয়ে ইরানের এমন সমালোচনা নতুন নয়। এর কয়েক দিন আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পরও জাতিসংঘ 'উদাসীন' অবস্থান নিয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সফরের শেষ দিনে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাঘচি। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে ইরানের অবস্থান জানান।
আরাঘচি বলেন, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ইরান আশা করে, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের ঘটনায় সংস্থা এবং এর সদস্যরাষ্ট্রগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের কথিত 'অবৈধ হস্তক্ষেপ' ও 'হুমকির'ও স্পষ্ট নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন এবং বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাত সমাধানে সংস্থাটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
