ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে—যুক্তরাজ্যে জ্বালানি পাম্প পর্যায়ে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত সোমবার যুক্তরাজ্যের মোটরিং সংস্থা 'আরএসি' প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরএসি-এর নীতিবিষয়ক প্রধান সাইমন উইলিয়ামস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১৯৯.১৮ পেন্স। এর ফলে একটি সাধারণ ফ্যামিলি কারের জ্বালানি ট্যাংক পূর্ণ করতে বর্তমানে প্রায় ১১০ পাউন্ড খরচ হচ্ছে, যা ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৩১ পাউন্ড বেশি।
ডিজেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কেবল ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের পকেটই কাটছে না, বরং শিল্প ও কৃষিখাতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে, যেকারণে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রীর পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যয়ও বেড়েছে। এসব খাতে ডিজেল এক অত্যাবশ্যক জ্বালানি।
এর আগে ২০২২ সালের জুন মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে রাসিয়া। তখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিলে— প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৯৯.০৯ পেন্সের রেকর্ড গড়ে। সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধি সেই রেকর্ডও ভেঙেছে।
আরএসি-এর সাইমন উইলিয়ামস বলেন, "(যুক্তরাজ্যের) পাম্পগুলোতে জ্বালানির দাম কমতে হলে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কেবল দু-এক দিনের জন্য নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা কম থাকতে হবে। এছাড়া জ্বালানি শুল্ক আরও ছাড় দিয়ে, কিংবা ভ্যাট কমিয়ে সরকার গাড়িচালকদের ওপর এই খরচের বোঝা লাঘবে পদক্ষেপ নিতে পারে।"
জ্বালানির এই উর্ধ্বমুখী দাম যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম প্রধান অনুঘটক। গত আগস্টে দেশটির মূল্যস্ফীতি পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা দীর্ঘদিন ধরে চলা জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে ভোগা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সামগ্রিক বাজারের তুলনায় যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম এখনো কিছুটা কম। গত ২১ সেপ্টেম্বরের আরএসি-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের ১৫টি দেশের মধ্যে ডিজেলের সর্বোচ্চ দামের তালিকায় ইতালির সাথে যৌথভাবে সপ্তম স্থানে ছিল যুক্তরাজ্য। এই তালিকায় যুক্তরাজ্যের ওপরে অবস্থান করছে নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম ও ফ্রান্স।
