আমিরাতে নেতানিয়াহুর গোপন সফরটি ছিল ৬ ঘণ্টার, প্রেসিডেন্ট আল-নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয় ছিল ইরান
রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন সফরটি ছিল ছয় ঘণ্টার। এ সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে তার আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ইরান। একাধিক সূত্র দ্য জেরুসালেম পোস্টকে এ তথ্য জানিয়েছে।
এই বৈঠকের আগের কয়েক সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে বেশ কয়েকবার টেলিফোনেও কথা হয়।
বিষয়টির সঙ্গে অবগত সূত্রের তথ্যমতে, আসন্ন নির্বাচনের আগেই একটি বৈঠকের আয়োজন করতে আমিরাত কর্তৃপক্ষের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছিলেন নেতানিয়াহু। সেই চাপের মুখেই শেষপর্যন্ত এই সফর হয়।
আমিরাতের কর্মকর্তারা এই চাপকে 'অস্বাভাবিক রকমের তীব্র' বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, এসব চাপের মধ্যে ছিল ঘন ঘন ফোনকল, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের তৎপরতা ও ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহায়াতার বিষয়ে নানা পরোক্ষ ইঙ্গিত।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ৭ অক্টোবরের আগে হামাসের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে আগেই সতর্ক করেছিলেন—এমন খবরের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা অস্বীকার করার জন্য তাকে অনুরোধও জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
এর কয়েক দিন আগেও একটি সফরের প্রাথমিক তারিখ ঠিক হয়েছিল, সম্পন্ন ছিল সব প্রস্তুতিও। কথা ছিল, বিষয়টি গোপন রাখা হবে, সফর শেষ হওয়ার পরই কেবল তা প্রকাশ্যে জানানো হবে। কিন্তু সফরটি শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভকে জানায়, 'প্রতিনিধি দল প্রস্তুত ছিল, সব আয়োজনও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু উড়োজাহাজ ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে সফর বাতিলের বার্তা আসে।'
ওই সূত্রের দাবি, আমিরাত কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে 'অবস্থান বদলে ফেলে' জানায়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ 'দেশে নেই'। যদিও পরে অনুসন্ধানে দেখা যায় তথ্যটি সঠিক ছিল না; তিনি সে সময় আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেই ছিলেন।
আমিরাতের ওপর নেতানিয়াহুর এমন মরিয়া চাপের পেছনে আরও একটি কারণ আছে। ৭ অক্টোবরের কিছুদিন আগে মোহাম্মদ বিন জায়েদ তাকে ফোন করে গাজায় আসন্ন ভয়াবহ 'ভূমিকম্পের' মতো পরিস্থিতির স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
মারিভকে দেওয়া বক্তব্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বলেছিল, 'ছুটির আগের দিন আমিরাত থেকে যে আনঅফিশিয়াল ও অস্পষ্ট প্রতিবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল, তা হয়তো সফর বাতিলের ক্ষতিপূরণ হিসেবেই নেতানিয়াহুকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু আবারও সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। মোহাম্মদ বিন জায়েদ কোনোভাবেই নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হতে চান না। তাছাড়া তাদের দুজনের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্কও বেশ কিছুদিন ধরে কিছুটা শীতল।'
তবে সফরটি নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অব্যাহত চাপ বজায় রাখা হয়েছিল। শেষপর্যন্ত রোববার সেই চাপে সাফল্য আসে।
তবে সোমবার এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে সফরটি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
