গত ২৫ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে রাশিয়ার প্রায় অর্ধেক স্কুল; সবচেয়ে বেশি বন্ধ হয়েছে গ্রামীণ অঞ্চলে
গত ২৫ বছরে রাশিয়ায় প্রায় অর্ধেক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দেশটির গ্রামীণ জনপদে। একই সঙ্গে টিকে থাকা বিদ্যালয়গুলোতে জোরদার করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পাঠ্যক্রম।
ইউরোনিউজে প্রকাশিত রাশিয়ার 'হায়ার স্কুল অব ইকোনমিক্স' (এইচএসই)-এর এক পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০-০১ শিক্ষাবর্ষে রাশিয়ায় স্কুলের সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার ৮০৪টি, যা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ৪৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৫টিতে। অথচ এই সময়ে স্কুলগামী শিশুর সংখ্যা কমেছে মাত্র ১৪ শতাংশ (২ কোটি ৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৭৭ লাখ)।
স্কুল বন্ধের মূল প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ অঞ্চলে। সেখানে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ৫৫ শতাংশ কমে ৪৫ হাজার ৪৭৫টি থেকে ২০ হাজার ৬৬৪টিতে নেমে এসেছে। একই সময়ে শহরে স্কুল কমেছে ২৮ শতাংশ। বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও তা মোট প্রতিষ্ঠানের মাত্র আড়াই শতাংশ।
শিক্ষার্থী কমার চেয়েও সরকারি নীতির কারণেই স্কুলগুলো বেশি বন্ধ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০০১ সালে শুরু হওয়া 'অপ্টিমাইজেশন' কর্মসূচির অধীনে শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে স্কুলে অর্থায়ন শুরু করে সরকার। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কম শিক্ষার্থীর স্কুলগুলো চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং সেগুলো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এভাবে ২০১০ সালের মধ্যেই ২৬ শতাংশ স্কুল হারিয়ে যায় এবং পরবর্তী বছরগুলোতে আরও ১২ হাজারের বেশি স্কুল বন্ধ হয়।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামের স্কুল বন্ধ হওয়ায় সন্তানদের শিক্ষার জন্য পরিবারগুলো শহরে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে বহু বসতি জনশূন্য হয়ে সেখানকার স্থানীয় অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
এদিকে টিকে থাকা স্কুলগুলোতে সরাসরি সরকারের আদর্শিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চালু করা হয়েছে 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা' শীর্ষক সাপ্তাহিক বাধ্যতামূলক ক্লাস। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনায় এতে দেশপ্রেম, ঐতিহ্যগত রুশ মূল্যবোধ ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গি শেখানো হয়।
এ ছাড়া ২০২৩ সাল থেকে চালু করা হয়েছে নতুন সমন্বিত পাঠ্যবই। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক গবেষকের মতে, এসব পাঠ্যবই 'সত্য গোপন করে এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য বিকৃত করে'।
নতুন এসব বইয়ে ইউক্রেনকে 'আগ্রাসী রুশ-বিরোধী ঘাঁটি' হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে রাশিয়ার অর্থনীতি ধ্বংসের চক্রান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটের তথ্য বিশ্বাস না করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
