ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮ দেশে রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারের নতুন পরিকল্পনা
ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দেশের বাজার সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশ্লেষণ করে পৃথক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনার আওতায় প্রতিটি বাজারের জন্য সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি ওই বাজারে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, প্রতিযোগী দেশগুলোর সক্ষমতা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
এ তালিকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে ২০টি দেশে রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ করছে তার মধ্যে রয়েছে- ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, কানাডা, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজির নাম। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজিকে একটি অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত 'বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন স্ট্র্যাটেজি: প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন অ্যাক্রোস এইটিন কি ট্রেডিং ডেস্টিনেশনস'- শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যসচিব বলেন, 'বাংলাদেশের রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণ—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'নির্বাচিত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশভিত্তিক প্রোফাইল এবং বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল প্রস্তুত করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।'
এসব তথ্য সমন্বয় করে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে জানিয়ে বাণিজ্যসচিব বলেন, 'এর মাধ্যমে কোন বাজারে কোন পণ্যের সম্ভাবনা বেশি, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী কারা এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন—তা আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।'
আতাউর রহমান খান বলেন, '১৮টি বাজার বিশ্লেষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির অংশ, নির্দিষ্ট পণ্যে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ, প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় এবং বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।'
তিনি বলেন, '১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।'
কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্যের ওপর গুরুত্ব দিলে হবে না; সেবা রপ্তানিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।'
তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি এবং সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, 'আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন জরুরি। উৎপাদন ও সেবা—উভয় খাতেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।'
একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও বাজার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যালস সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা রপ্তানি সম্প্রসারণে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
অংশগ্রহণকারীরা তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
তাদের মতে, এসব খাতে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও সম্ভাবনা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং নীতিগত সহায়তার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
