যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক বৈঠক; তেহরানকে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের প্রস্তাবের খবর ‘ভুয়া’: ট্রাম্প
সাত মাসের যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা।
বৈঠকের বিষয়ে অবগত একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পরবর্তী আলোচনায় গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। গত সাত মাসের সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দফা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে উভয় চুক্তিই অল্প সময়ের মধ্যে ভেস্তে যায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর নিউইয়র্কে অবস্থান করা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
আরাগচি বলেন, 'আমেরিকানরা যদি দাবি করে তারা একটি সমঝোতা বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে আমরা সেই সমাধানই উপস্থাপন করেছি।'
সোমবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন কর্মকর্তারা আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড়ের বিনিময়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আটকে থাকা তহবিল ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি এ সংক্রান্ত গণমাধ্যমের দাবি নাকচ করে দেন।
অ্যাক্সিওস এবং ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজ হিব্রু ভাষায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছিল। তবে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, খবরটি 'ভুয়া'। তিনি সেখানে লেখেন, 'আমি তাদের কিছুই প্রস্তাব করিনি!'
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরানের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিনিময়ে ট্রাম্প 'ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দিতে এবং দেশটির জব্দ করা তহবিল ছাড় দিতে আগ্রহী'।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুরো প্রতিবেদনটিকে 'একটি ধাপ্পাবাজি' বলে আখ্যায়িত করেন এবং সংবাদমাধ্যমটির এ খবর প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, কোনো বিস্তারিত তথ্য না জানিয়ে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা পৃথকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
ইরানের সাত দিনের ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে—ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে হবে, আটকে থাকা শত শত কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে, ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে হবে।
এর বিনিময়ে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং উভয় পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেন, তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখেই তেহরান দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছে। তবে রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে তিনি বলেন, মার্কিন আলোচকরা চলতি সপ্তাহেই পরবর্তী আলোচনায় অংশ নেবেন বলে তিনি আশা করছেন।
