ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে, স্বীকার করলেন ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের তুলনায় নির্দিষ্ট কিছু গোলাবারুদের মজুত কিছুটা কমেছে।' অস্ত্র সংকটের বিষয়ে এটিই ট্রাম্পের প্রথম স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ স্বীকারোক্তি।
তবে সামগ্রিক অস্ত্র সরবরাহ পরিস্থিতি "অত্যন্ত ভালো" দাবি করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গত ছয় মাস ধরে পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যে তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসার আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যিনি এতদিন দেশে সামরিক গোলাবারুদের উল্লেখযোগ্য ঘাটতির কথা সরাসরি অস্বীকার করে আসছিলেন। এই বিষয়ে গত আগস্টে তিনি কেবল এটুকুই স্বীকার করেন যে কিছু সরঞ্জামের মজুত "সামান্য ঘাটতির মধ্যে" রয়েছে।
সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গোলাবারুদের মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্প সে সময় সেই সতর্কবার্তাকে "ভুয়া খবর" বলে উড়িয়ে দেন। তবে বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা নরম সুরে কথা বলেন—তিনি দাবি করেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৈরি ওই প্রতিবেদনটি "বেশিরভাগই ভুয়া খবর"।
তিনি বলেন,'আমাদের মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি মানের অস্ত্র রয়েছে, যা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও উন্নত।'
ট্রাম্প দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যেসব অস্ত্র নিতে রাজি হননি, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেগুলোর ওপরও নির্ভর করছে। তিনি আরও বলেন, সেগুলো ছিল "অত্যন্ত শক্তিশালী গোলাবারুদ"।
সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে ইরান সমঝোতায় না এলে নতুন করে বোমা হামলা চালিয়ে দেশটির অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২৮ সেপ্টেম্বরের সাক্ষাৎকারটিতে ট্রাম্প বলেন, 'ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া এখনও সম্ভব।'
তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, আমি তা করব। এটি হওয়া সম্ভব। কারণ ইরানকে ধ্বংস করার মাধ্যমেই আমরা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারব। ইরান থাকলে বিশ্বশান্তি কখনোই সম্ভব নয়।'
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বোমা হামলা আরও বাড়াবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবেও ট্রাম্প সংক্ষেপে বলেন, 'সম্ভব'।
এদিকে ককপিটে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর তেল আবিবগামী একটি 'ফ্লাইদুবাই' ফ্লাইট বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
যাত্রী ও বিমানকর্মীরা তাকে কাবু করার আগে বিমানের সহ-পাইলট মূল ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করেন। পরবর্তীতে বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। তবে এই ঘটনার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
কর্তৃপক্ষ এখনো হামলাকারীর নাম প্রকাশ করেনি বা ঘটনার মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেনি। যদিও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ না করেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘটনাটিকে একটি "জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা" বলে বর্ণনা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটার দুই দিন আগে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ ধরনের সংঘাতের প্রভাব পড়া দেশগুলোর জন্য নিজেকে যেন এক অনন্য 'শান্তিদূত' হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তিনি দাবি করেন, তিনি না থাকলে ইসরায়েল এবং সৌদি আরব দুটি দেশই ধ্বংস হয়ে যেত।
ট্রাম্প বলেন, 'আমি সৌদি আরবের জন্য অনেক কিছু করেছি। আমিই সৌদি আরবকে রক্ষা করি। আমি প্রেসিডেন্ট না থাকলে আজ সৌদি আরবের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। বিশ্বের মানচিত্র থেকেই তারা পুরোপুরি মুছে যেত।'
