ওমানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে হুথির প্রতিনিধিদের বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি
ওমানের রাজধানী মাসকাটে এ সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এর কয়েক দিন আগে ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠী ব্যাপক এক অভিযানে সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে লোহিত সাগরের উপকূলের একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অংশের দখল নেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
দুটি সূত্র বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসা ওমান সরকার বৈঠকটি আয়োজন করতে সহায়তা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত বছরের মার্চে হুথিদের 'বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এর ফলে গোষ্ঠীটির প্রতি সমর্থন দেওয়া অপরাধ বলে গণ্য হয়। তবে এরপরও ওয়াশিংটন হুথিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের মে মাসে একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই পক্ষ।
এর আগে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হুথিদের হামলা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র দুই মাস ধরে গোষ্ঠীটির ওপর বোমা হামলা চালায়।
ট্রাম্প শনিবার বলেন, হুথিরা তার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইয়েমেনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত সোমবার বলেছেন, গোষ্ঠীটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হুথিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, তারা কোনো মার্কিন জাহাজে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে না। পাশাপাশি ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানিয়েছে। দুটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইয়েমেনি একটি সূত্র জানিয়েছে, হুথি প্রতিনিধিরা আরও বলেছেন, তারা ইসরায়েলি জাহাজ কিংবা কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাবে না। তবে সৌদি আরবের মালিকানাধীন জাহাজের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হবে।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করেন।
ওই সূত্রগুলোর একটি জানিয়েছে, হুথিদের প্রতিনিধিদলে ছিলেন মাসকাটে অবস্থানরত গোষ্ঠীটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুস সালাম। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। আরেকটি সূত্রও আবদুস সালামের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার সঙ্গে হুথিদের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদেলমালিক আল-আজিরিও বৈঠকে ছিলেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
ওমানে হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক হয়েছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি বলেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্বার্থের মধ্যে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রে ওমানের দূতাবাস এবং হুথিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদুস সালাম এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য করা অনুরোধের জবাব দেননি।
গত সপ্তাহে হুথিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের কার্যত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বন্দরনগর মখা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির পারিম দ্বীপও রয়েছে।
