চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার
চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার। চলতি বছরের বাকি সাড়ে তিন মাসের জন্য চীনের এই জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। চীনের ইউনিপেক ও পেট্রোচায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে জিটুজি ভিত্তিতে এসব জ্বালানি কেনা হবে।
বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এর আগে দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৯তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রচলিত সরকারি পর্যায়ে জিটুজি ব্যবস্থার মাধ্যমে ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস ওয়েল ও জেট ফুয়েল আমদানি করা হবে। প্রস্তাবে বলা হয়, অতিরিক্ত এ জ্বালানি আমদানির পরিমাণ ২০২৬ সালের মূল বরাদ্দের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।
পরিবহন, শিল্প ও বিমান চলাচল খাতে জ্বালানির বাড়তি চাহিদা পূরণ এবং বছরের শেষ চার মাসে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে এ অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১০ নভেম্বরের মধ্যে এক কার্গো অতিরিক্ত এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে প্রতি এমএমটিবিইউ এলএনজির দাম হবে এশিয়ার স্পট মার্কেট রেট নামে খ্যাত জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম)+০.০২ ডলার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভরের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি মূল্যের তুলনায় কম।
৪৪ কোম্পানিকে ৯.২০ লাখ টন সার আমদানির অনুমোদন, সরকার আমদানি করবে ১.৫৫ লাখ টন
এদিকে বৈঠকে দেশে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারও বিভিন্ন দেশ থেকে সার আমদানি করবে।
বৈঠকে বেসরকারি খাতের ৪৪টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৯.২০ লাখ টন নন-ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৫ লাখ টন ডিএপি (ডায়ামোনিয়াম ফসফেট) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ৯৩৮ ডলার দরে ১৯টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সার আমদানি করা হবে।
১৪টি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২.২০ লাখ টন এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৯৯ ডলার টন দরে এই সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৮.৭৮ কোটি টাকা।
এছাড়া ১০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন দেশ থেকে ২ লাখ টন টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ৭৫৬ ডলার টন দরে এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
এদিকে, রাষ্ট্রীয়ভাবে জিটুজি ভিত্তিতে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৮০ হাজার টন ডিএপি ও সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি।
