যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার জবাবে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা ইসরায়েলের
ইসরায়েল মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কনস্যুলেটটি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ইসরায়েল এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া, কিরিয়াত গাতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক গাজা সহায়তা কেন্দ্র থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বহিষ্কার করা, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্রিটিশ কার্যক্রম বন্ধ করা এবং ১২ জন ব্রিটিশ নির্বাচিত প্রতিনিধি ও নাগরিককে ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া।
ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আইনপ্রণেতা জেরেমি করবিন, জারা সুলতানা, নাজ শাহ, ডায়ান অ্যাবট, হান্না স্পেন্সার, কার্লা ডেনিয়ার, সিয়ান বেরি, এলি চাউনস, জন ম্যাকডোনেল, রিচার্ড বার্গন, অ্যাড্রিয়ান রামসে এবং লন্ডনভিত্তিক 'রিভারওয়ে টু দ্য সি' সংগঠনের পরিচালক ফাহাদ আনসারি।
এর আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। তিনি এ সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে 'জাতিগত নিধন' চলার কথা উল্লেখ করেন।
অধিকৃত ভূখণ্ডে নতুন করে ১,২০০টি বসতি নির্মাণের ইসরায়েলি পরিকল্পনার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ইসরায়েলের এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক নিন্দার জন্ম দিয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সব বসতিকেই অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
