সংঘাত শেষে ইসরায়েলের সাথে সৌদিসহ অন্যদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও ইরানকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা ট্রাম্পের
যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তার ঠেকানো এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
বিষয়টির সঙ্গে সম্পৃক্ত মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক খসড়া তৈরির পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো, ইরান যুদ্ধ শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরে মার্কিন সরকারের মধ্যপ্রাচ্য নীতি নির্ধারণে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করা। তবে এ পরিকল্পনার ওপর দুটি বড় ঘটনা প্রভাব ফেলতে পারে—আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচন এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় এবং আন্তঃসংস্থাগুলোর কার্যকরী পর্যায়—উভয় স্তরেই এই কৌশলের প্রাথমিক কাজ চলছে।
সূত্রমতে, সম্প্রতি ট্রাম্প তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন, যেখানে পরিকল্পনাটি নিয়ে বিশদ আলোচনা ও নতুন ধারণা উপস্থাপন করা হয়।
ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হলে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে 'অনেক বড় কিছু' করতে যাচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।
পরিকল্পিত এই কৌশলের তিনটি মূল বিষয় আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তা হলো:
- যুক্তরাষ্ট্রকে মূল জামিনদার রেখে ইরানকে কোণঠাসা করতে মার্কিন মিত্রদের নিয়ে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট গঠন।
- ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরায়েল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদন এবং ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি বলবৎ করার মাধ্যমে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর সৃষ্ট আঞ্চলিক সংকট সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছানো।
- আব্রাহাম চুক্তির আরও সম্প্রসারণ এবং বহুল আলোচিত সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি বাস্তবায়ন করা।
ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের মাধ্যমে ইসরায়েলে যে নতুন সরকার গঠিত হবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধোত্তর কৌশলে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ বলছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন—এমনকি রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলেও—ট্রাম্প এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেবেন না।
পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা রয়েছে এমন একটি সূত্র জানায়, কৌশলের চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। সূত্রের মতে, 'বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে, তবে তা এখনো তৈরি হয়নি।'
তিনি আরও বলেন, 'মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের পর আঞ্চলিক জোট গঠনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছুৃ জটিল ইস্যু একসাথে সমাধান করা। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্র দেশ এই পরিকল্পনায় সমর্থন দেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।'
