খারগ দ্বীপের কাছে ইরানি ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
পারস্য উপসাগরে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের কাছে একটি ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম এই তথ্য জানিয়েছে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) খারগ দ্বীপে অবস্থানরত তাসনিমের প্রতিনিধি জানান, দ্বীপটির অ্যাঙ্কোরেজে অবস্থানকালে ট্যাংকারটিকে লক্ষ্য করে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ট্যাংকারের ক্রু সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে মন্তব্যের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও (সেন্টকম) সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ভিডিওসহ এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, খারগ দ্বীপকে "গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে"। এর জবাবে খারগ দ্বীপে কোনো হামলা চালানো হলে– তার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরানি কর্তৃপক্ষ।
খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হলো ইরান। চলমান সংঘাত শুরুর আগে দেশটি তাদের মোট অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশই রপ্তানি করত এই খারগ দ্বীপের টার্মিনাল দিয়ে। তবে গত এপ্রিলে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে গত ১১ জুন ট্রাম্প খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও—তার কয়েক দিন পর জানান, সেখানে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এরপর গত ১৭ জুন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপে যেকোনো মার্কিন হামলা ইরানের তেল শিল্প তথা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নতুন করে চরম চাপ সৃষ্টি করবে, যা ইতিমধ্যে আমেরিকার নৌ-অবরোধের কারণে মারাত্মক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগের বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে যুদ্ধ শুরুর পরে ইরান কার্যত এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিলে— পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেশটির বন্দরগুলোতে এই কঠোর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
