মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে চায় ইরান: গোয়েন্দা প্রতিবেদন
ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে এখন আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে এবং দেশটির জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে ইরান কয়েক মাস ধরে এই সংঘাত চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। শুক্রবার সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত এখনো সীমিত পর্যায়ে থাকলেও গোয়েন্দা তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে ইরানের নেতৃত্ব বড় ধরনের উত্তেজনা বা সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পেয়েছে এবং সেই সক্ষমতার ওপর তাদের আস্থাও বেড়েছে।
এ ছাড়া নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমস্যাগুলো আরও বাড়িয়ে দিতে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো সতর্ক করেছে, ইরান গত জুলাইয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। অর্থাৎ, দেশটি এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি যুদ্ধ শুরুর পর ইরানি হ্যাকাররাও নতুন করে সংগঠিত হয়েছে এবং তারা সরাসরি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন দুর্বল করার লক্ষ্য থাকতে পারে তাদের।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এমন হামলার সম্ভাবনা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেছেন, "আপনি আমেরিকানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার বিষয়ে ইরানের সক্ষমতার কথা যদি বলেন, তাহলে আমি বলব তাদের সেই সক্ষমতা খুবই সীমিত। একেবারে শূন্য নয়, তবে বেশ সীমিত। বরং অন্য কিছু পক্ষের সাইবার হামলা নিয়ে আমি অনেক বেশি উদ্বিগ্ন থাকব।"
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসার পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে বড় ধরনের নতুন হামলা চালানোর দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরান অন্তত মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে। তাদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হবে।
এ ছাড়া নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী ফলাফলে ক্ষতি করতে পারে—এমন তথ্য বা প্রচারণা ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে ইরান।
প্রতিবেদনে মেটার একটি রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ইরান থেকে পরিচালিত একটি অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো মূলত মার্কিন রাজনীতি নিয়ে পোস্ট করত এবং "রিপাবলিকানবিরোধী মতামত" ছড়িয়ে দিত। এসব কনটেন্টের কিছু অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (েএআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল।
