আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে হামলা ও গালিগালাজ করায় যাত্রীকে ডাক্ট-টেপ দিয়ে বেঁধে রাখল সহযাত্রীরা
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি উড়ন্ত বিমানে সহযাত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা ও বিমানবালাকে বর্ণবাদী গালিগালাজের অভিযোগে ৬৭ বছর বয়সী এক যাত্রীকে সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) টেক্সাস থেকে নিউ জার্সির নেওয়ার্কগামী বিমানে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আর্থার লানডিন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিা গেছে, উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই লানডিন তার পাশের সিটে বসা যাত্রীর ওপর চড়াও হন এবং দুই হাত দিয়ে তার গলা টিপে ধরেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমানের এক কৃষ্ণাঙ্গ বিমানবালা এবং একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্য যাত্রীরা তাকে থামাতে এগিয়ে যান। তবে লানডিন ক্ষান্ত না হয়ে তাদেরকে কুরুচিপূর্ণ, বর্ণবাদী ও সমকামী বিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে বিমানে থাকা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়ান মেহিয়া ও অন্যান্য যাত্রীরা লানডিনের হাত প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং ডাক্ট টেপ পেঁচিয়ে তাকে সিটের সঙ্গে আটকে রাখেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হোয়ান মেহিয়া সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে বলেন, 'মুহূর্তের মধ্যেই শান্ত পরিবেশ হট্টগোলে পরিণত হয়। আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি এক অসহায় যাত্রীর গলা চেপে ধরে আছেন ওই ব্যক্তি। তাকে থামানোর পর তিনি নারী ও অন্য সহযাত্রীদের অপমানজনক ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।'
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বিমানটি বাল্টিমোর ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক (বিডব্লিউআই) বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। পরে বিমানবন্দরেই পুলিশ বিমানে উঠে অভিযুক্ত লানডিনকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সহযাত্রীর ওপর হামলার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রাহক এবং কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। বিমানে যেকোনো ধরনের সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের জন্য কর্মী ও সহযাত্রীদের ধন্যবাদ জানাই।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফেডারেল অপরাধমূলক মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী বিমানকর্মীদের ওপর হামলা বা কাজে বাধা দিলে ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি বিমান সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। চলতি বছরেই দেশটিতে বিমানে যাত্রীদের এমন বিশৃঙ্খল আচরণের ১,১৬০টিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে এফএএ।
