ইরান-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তুরস্কের ব্যাংকের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
যুদ্ধের ময়দানে সুবিধা করতে না পেরে, ইরানকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। যার অংশ হিসেবে সম্প্রতি তুরস্কের একটি ব্যাংক ও তার অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়। ইরানের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে ব্যাংকটি।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার তুরস্কের গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক-এর বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স-এর পক্ষে কয়েক কোটি ডলারের লেনদেনে সহায়তা করা এবং বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক তহবিল স্থানান্তরের জন্য ইরান সরকারকে ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এনে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, সোনা ও নগদ অর্থ ব্যবহার করে চীন থেকে তুরস্কে তেলের রাজস্ব স্থানান্তরে ইরানের 'রাহবার নেটওয়ার্ক' বা ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সহায়তা করতেই মূলত এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাবে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত সব নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুর্কি ব্যাংকটি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের করা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে পারে—এমন কোনো লেনদেন তারা কখনো করেনি।
ব্যাংকটি আরও জানায়, "আমরা অত্যন্ত কার্যকরভাবে আপত্তি জানানোর অধিকার প্রয়োগ করব এবং আইনি পথ অবলম্বন করব। এসব অভিযোগ ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, "ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো কঠিনভাবে টের পাচ্ছে যে আমরা 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' নিয়ে কতটা কঠোর।"
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক এবং এর দুটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের 'অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওফ্যাক)-এর বিশেষভাবে নির্দিষ্ট ব্যক্তিবিশেষের (এসডিএন) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাংকটির যুক্ত থাকার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে তুর্কি ব্যাংকটি জানিয়েছে, ওফ্যাকের সিদ্ধান্তে উল্লিখিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো কখনই গোল্ডেন গ্লোবালের গ্রাহক ছিল না এবং বর্তমানেও নেই।
এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক শনিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপকে গোটা তুরস্কের ওপর কোনো মূল্যায়ন বা রায় হিসেবে দেখা তুর্কি কর্মকর্তাদের জন্য একটি ভুল সিদ্ধান্ত হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্সে' বারাক লিখেছেন, "তুর্কি আর্থিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না; এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ আচরণের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ।"
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মিসরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) শাখার আর্থিক প্রবেশাধিকার বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন নিষ্পত্তির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এর আগে মঙ্গলবার জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন চলতি সপ্তাহে একটি এবং আগামী সপ্তাহে আরেকটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে পারে।
