ইরানকে একঘরে করতে সাহায্য করবে চীন: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতির কাছাকাছি পর্যায়ে ফিরে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর থেকে তেহরান কার্যকরভাবে তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, 'আপনি যদি তিন মাস আগের দিকে তাকান, তবে ইরানি হুমকির মুখে এই প্রণালী দিয়ে কী পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল? তা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। আর এখন, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতিতে প্রায় সবই ফিরে এসেছে।'
ভ্যান্স বলেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে শেষ হয়ে গেছে এবং জাহাজগুলোতে আক্রমণ বন্ধ না করা পর্যন্ত আমেরিকা তেহরানের সাথে কোনো সংলাপে বসবে না।
তিনি আরও জানান, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত চীন। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক এবং ঐতিহাসিকভাবেই ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ফলে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের কাছে বেইজিং এক মূল অনুঘটক।
ভ্যান্স জানান, দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে কথিত হামলার বিষয়ে আমেরিকা তদন্ত পরিচালনা করছে। এ হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাতে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন উপকূলীয় শহর কুহেসতাকে এই বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে এবং আক্রমণটিকে একটি "যুদ্ধাপরাধ" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ঘটনাটি সম্পর্কে তেহরানের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও ভ্যান্স বলেন, 'আমি জানি যে আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।আমি বলব যে, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যা যা ঘটেছে, সে সম্পর্কে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম খুব একটা নির্ভরযোগ্য বা বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদানকারীর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তাই এই বিষয়ে আমি অত্যন্ত সংশয়ী।'
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই কথিত হামলার ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে জানিয়েছে 'মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অব্যাহত উত্তেজনার আবহেই এ ঘটনাগুলো ঘটল।
এপ্রিলের একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তীব্র লড়াইয়ের প্রথম পর্যায়ের অবসান ঘটলেও, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশের এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও হামলা বন্ধ হয়নি।
