বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে ক্ষুব্ধ জাপান
জাপানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত সপ্তাহে যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপগুলো সফর করেছিলেন, সেগুলোর আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে রুশ নৌবাহিনী। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাপান।
বৃহস্পতিবার ওমানে সফরের সময় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বলেন, 'ফোর নর্দার্ন আইল্যান্ডসে সামরিক শক্তি বাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ আমরা মেনে নিতে পারি না। কারণ, এটি এসব ভূখণ্ড নিয়ে আমাদের দেশের অবস্থানের পরিপন্থী।'
রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ ইতুরুপু (জাপানে এতোরোফু নামে পরিচিত) থেকে ভূমি থেকে জাহাজে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে থাকা এর সমস্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সামরিক মহড়ায় একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন এবং একটি গাইডেড-মিসাইল ক্রুজারও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গত সপ্তাহে বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপের মধ্যে ইতুরুপ সফর করে পুতিন টোকিও ও মস্কোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক তলবের পরিস্থিতি তৈরি করেন। জাপানে এসব দ্বীপকে 'নর্দার্ন টেরিটরিজ' বা 'ফোর নর্দার্ন আইল্যান্ডস' বলা হয়। অন্যদিকে, রাশিয়া এগুলোকে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অংশ বলে মনে করে।
এই দ্বীপগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো জাপানের কাছ থেকে দখল করে নেয়।
রুশ নৌবহরের সামরিক মহড়া গত ৪ আগস্ট শুরু হয়। জাপানকে আগেই জানানো হয়েছিল যে এতে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়াও থাকবে। ৫ আগস্ট জাপান এই বড় আকারের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
রুশ বার্তা সংস্থা তাসের মতে, মহড়ায় রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের প্রায় ৬০টি যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও সহায়ক জাহাজ, প্রায় ৩০টি বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন এবং ১৩ হাজারের বেশি সেনাসদস্য অংশ নিয়েছে।
১২ আগস্ট বিরোধপূর্ণ দ্বীপগুলো এবং হোক্কাইডোর উত্তরে অবস্থিত রাশিয়ার মালিকানাধীন দ্বীপ শাখালিন সফরের সময় পুতিন রুশ নৌবাহিনীর ফ্ল্যাগশিপ 'ভারিয়াগ' থেকে সামরিক মহড়ার কিছু অংশ পর্যবেক্ষণ করেন।
রাশিয়ার এই সামরিক মহড়া ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
