অস্ত্রের মজুত বাড়াতে ইরানে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক পাঠাচ্ছে রাশিয়া
একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের অস্ত্রের মজুত ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সেই মজুত পুনরায় পূরণ করতে রাশিয়া ইরানকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে।
নথিপত্র ও পশ্চিমা বিশ্বের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, দুই ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে এসব অস্ত্র ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে। এসব জাহাজের অনেকগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, এই ঘটনা যেমন মস্কো ও তেহরানের ক্রমবর্ধমান জোটের বিষয়টি তুলে ধরছে, তেমনি এটিও প্রমাণ করছে যে ইরানের অস্ত্র উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অনেকাংশে সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, 'রাশিয়ার কাছ থেকে ইরানের ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও ছোট অস্ত্রের গোলাবারুদ সংগ্রহের ঘটনা জোরালোভাবে ইঙ্গিত করে যে, এসব সামগ্রী উৎপাদনকারী ইরানের স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কারণে দেশটির নিজস্বভাবে এসব পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।'
বর্তমানে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনকারী রুশ জাহাজগুলো এমজি-ফ্লট নামের একটি সামুদ্রিক পরিবহন কোম্পানির মালিকানাধীন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে কোম্পানিটির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে বারবার ইরানের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে উন্নত সংস্করণের ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এর মাধ্যমে তেহরানের মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্রেমলিন বিশেষভাবে ইরানের যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা শাহেদ আত্মঘাতী ড্রোনের উন্নয়ন করেছে। এসব ড্রোন বহু বছর ধরে ইউক্রেনকে ব্যাপকভাবে ভুগিয়ে আসছে।
এই অস্ত্র ও প্রযুক্তি বিনিময় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, মস্কো ইরানের যুদ্ধযন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, ঠিক যেমন ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর তেহরান তাদের জন্য তা করেছিল।
রাশিয়া ইরানকে ঠিক কত পরিমাণ সরঞ্জাম দিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে ক্রেমলিন বারবার এসব অভিযোগকে 'ভুয়া খবর' ছাড়া আর কিছু নয় বলে তীব্রভাবে নাকচ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে রাশিয়ার সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব কমিয়ে দেখেছেন। গত মাসে তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে মস্কো তেহরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে না।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপগ্রহচিত্র ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগ তোলার পর ট্রাম্প আরও বলেন, রাশিয়ার যেকোনো ধরনের সহায়তার 'প্রভাব খুবই সামান্য' ছিল।
