ইরান থেকে ২ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি আরব আমিরাতের, ‘ভিত্তিহীন’ বলছে তেহরান
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। ৪ মে ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার পর এটিই এ ধরনের প্রথম ঘটনা বলে জানানো হয়েছে।
পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র দুটি 'সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ' লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয় বলেছে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই সমুদ্রে পড়ে যায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে একে 'ভিত্তিহীন' বলে অভিহিত করেছেন।
ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির পর দেওয়া এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে। দেশটি বলেছে, এই উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা সোমবার কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এতে সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, 'যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে।'
এর আগে মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে একটি সতর্কবার্তা পাঠায়। সেখানে জানানো হয়, পরিস্থিতি নিরাপদ রয়েছে এবং মানুষকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যেতে বলা হয়। এর আগে ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির বিষয়ে আরেকটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় ইরান দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির জাহাজগুলোতে হামলা করেছে।
আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির জাহাজগুলোতে হামলার দায় ইরান স্বীকার করেনি। এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুমকি দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী যেসব জাহাজ তেহরানের বিরোধীদের সঙ্গে যুক্ত অথবা ইরানের নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
