যুক্তরাষ্ট্রকে ফের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের ‘নাটক’ সাজিয়েছে ইসরায়েল, দাবি ইরানি মিডিয়ার
ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে আনার উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি উড়োজাহাজ ব্যবহার করে 'ফলস ফ্ল্যাগ' ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—এমন তথ্যের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে এক অজ্ঞাত 'আঞ্চলিক সূত্রের' বরাতে দাবি করা হয়, গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে ঘটা ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে ইসরায়েলের কথিত পরিকল্পনারই অংশ ছিল।
সূত্রের দাবি, দুবাইয়ের সেই উড়োজাহাজে ঘটনার ঠিক তিন দিন আগে আরব আমিরাতে একটি গোপন সফর করেন নেতানিয়াহু। সেই সফরেই এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের সাথেও আলোচনা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি ঘটনা ঘটানো যার দায় সরাসরি ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায়।
প্রেস টিভির সেই সূত্র আরও দাবি করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন একটি যুদ্ধে জড়ানোই ছিল এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, সামনে ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচন থাকায় নিজের জোটের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে শঙ্কিত নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ সুবিধা পেতেই এই পরিকল্পনা সাজিয়েছে বলে দাবি সূত্রের।
তবে এই অভিযোগের সপক্ষে প্রেস টিভি কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করতে পারেনি এবং তাদের সূত্রের নামও প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক শহরের প্রিন্স সুলতান বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
ঘটনার পরপরই ফ্লাইদুবাই এক বিবৃতিতে জানায়, উড্ডয়নকালে ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তবে বিমানে থাকা ক্রু সদস্যরা দ্রুত ককপিট ও বিমান সুরক্ষিত করতে সক্ষম হলে সেটিকে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, ককপিটের সংঘাতের ফলে বিমানের প্রধান ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার উভয়ই আহত হন এবং তাদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে বিমানের সকল যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ রয়েছেন।
ইতোমধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সৌদি আরবের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কার্যক্রম চলাকালীন ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে বহির্গামী তাদের সমস্ত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে ফ্লাইদুবাই। সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমেই ঘটনার পেছনে থাকা সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য বেরিয়ে আসবে।
