ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক ৮
ব্যাংককের জনপ্রিয় চাতুচাক জেলার একটি নাইট ক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার মধ্যরাতের পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকল কর্মীরা দেখেন, আগুন লেগে যাওয়া মূল ফটক দিয়ে পালাচ্ছেন ভেতরে আটকে পড়া মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বারের স্টেজের কাছ থেকেই আগুন লেগে দ্রুত তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো কামরা ধোঁয়ায় ভরে ওঠে। এক্স-এ পোস্ট করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বারের ভেতর থেকে আগুনের শিখা বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে; মানুষ ছুটে বেরিয়ে আসছেন, অনেকে চিৎকার করছেন। হুড়োহুড়িতে অনেককে মাটিতে পড়ে যেতেও দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও উদঘাটিত হয়নি, তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক গাড়িচালক প্রথম আগুন দেখতে পান। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজ-কে জানান, আগুন দেখেই তিনি গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন। তারপর জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে আটকা পড়া দুজনকে টেনে বের করে আনেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন সাংবাদিকদের বলেন, আগুন লাগার সময় মঞ্চে পারফর্ম করছিলেন এমন এক সংগীতশিল্পীর কথা হয়েছে তারা। ওই শিল্পী ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, 'হঠাৎ কাট-আউট সুইচে আগুন ধরে যায়। তারপর সব কিছু দ্রুত ঘটে যায়। বিস্ফোরণ শুরু হয়। ধোঁয়া আর আগুন থেকে বাঁচতে সবাই ছুটছিল।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভেতরে আটকে পড়াদের অনেকেই বের হতে পারেননি। তারা আশ্রয়ের জন্য ভবনের পেছনের দিকে গিয়ে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস আটকে মৃত্যু হয় অধিকাংশের।
দমকল বাহিনী আধাঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এর মধ্যেই ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৬০ জনের বেশি; তাদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ব্যাংককের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রবিওয়ান জানান, প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হচ্ছে, বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সাথে ভেতরে যাওয়ায় দম আটকে বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হতে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন।
সুরিন জাইহার্ন নামক একজন মোটরসাইকেল আরোহী এএফপিকে বলেন, জ্বলন্ত বার থেকে অন্তত পাঁচজনকে বের হতে সাহায্য করেছেন তিনি। ওই মানুষগুলোর গায়ে আগুন ধরে গিয়েছিল; নিজের পোশাক ছুড়ে দিয়ে সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
সুরিন বলেন, 'খুব হতাশ লাগছে। চোখের সামনে এতগুলো মানুষকে মারা যেতে দেখলাম! আর যাদের সাহায্য করেছিলাম, তাদের কী হয়েছে, তা-ও জানি না।'
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা ব্যাংককের গভর্নর চাতচার্ট সিত্তিপুন্ত বলেন, বারের ছাদে থাকা দাহ্য জিনিসপত্রের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ওই সব জিনিসের পোড়া বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে ভেতরে আটকে পড়া মানুষগুলো সম্ভবত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।
চাতচার্ট আরও জানান, ভবনের জরুরি বহির্গমন পথের কাছে অনেককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ওই পথে টেবিল বা অন্য কোনো ভারী জিনিস রাখা ছিল, যা সম্ভবত বেরোনোর রাস্তা আটকে দিয়েছিল।
এমন ঘটনা থাইল্যান্ডে এই প্রথম নয়। চার বছর আগেই ব্যাংককের দক্ষিণের এক শহরের একটি বারে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে রাজধানীর একটি নাইট ক্লাবে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছিল ৬৬ জনের।
