বেইলি রোডে আগুন: আত্মসমর্পণের আবেদন করে ফের প্রত্যাহার হাক্কা রেস্টুরেন্ট মালিকের
রাজধানীর বেইলি রোডে 'গ্রিন কোজি কটেজ' নামে ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় করা মামলায় (হাক্কা-ঢাকা) রেস্টুরেন্টের মালিক রাফি উজ-জাহেদের জামিনের আবেদন করেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তার আইনজীবী।
রোববার (১৪ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ'র আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন চেয়ে আবেদন করেন রাফি।
ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই রেজাউল করিম জানান, আসামি রাফি উজ-জাহেদ গত ২৩ মে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন। সেদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ তার পক্ষে আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।
এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারীসহ ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দেওয়া চার্জশিট আমলে গ্রহণ করেন আদালত।
একই সঙ্গে ওইদিন পলাতক থাকা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ২ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লিখিত আসামিরা হলেন- চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ এবং তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ।
এছাড়া চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ৬ষ্ঠ তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খাঁন, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী লতিফুর নেহার এবং খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা।
আরও আছেন এ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুওকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ।
মামলার অভিযোগ পত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারী বিধি-নিষেধ অমান্য করেন। তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বৈধ অনুমোদন না নিয়ে নিয়ম-নীতি না মেনে অবৈধভাবে হোটেল ব্যবসা পরিচালনাসহ হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করেন। যে কারণে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পৌনে ১০ টায় অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন মানুষ নিহত হয়। এর মধ্যে ৩ জন সম্পূর্ণরূপে আগুনে পুড়ে মারা যান।
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে গ্রীন কোজি কটেজ সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ যায় ৪৬ জনের। ওই ঘটনায় রমনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন।
