যুক্তরাজ্যসহ ৯০টির বেশি দেশের জন্য ভিসামুক্ত থাকার মেয়াদ কমাচ্ছে থাইল্যান্ড
যুক্তরাজ্যসহ কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকেরা এখন থেকে ৩০ দিনের বেশি থাইল্যান্ডে থাকতে চাইলে তাদের আগে থেকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
কোভিড মহামারির পর থাইল্যান্ডের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে ৯৩টি দেশের পর্যটকদের ভিসা ছাড়া ৬০ দিন পর্যন্ত থাইল্যান্ডে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু মঙ্গলবার থাই সরকার এই ছাড় বাতিলের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এখন থেকে কোনো দেশের নাগরিকেরা কত দিন ভিসামুক্ত থাকতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করা হবে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বর্তমান ভিসা ব্যবস্থার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির কারণেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে থাই সরকার।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে সম্প্রতি বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে মাদক কারবার ও মানব পাচারের মতো অপরাধের ঘটনাও রয়েছে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, 'অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা—উভয় দিক থেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে' সরকার এই নীতি পর্যালোচনার প্রয়োজন বোধ করেছে।
আগে অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর নাগরিকেরা ৬০ দিন ভিসামুক্ত থাকার সুবিধা পেতেন।
থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব দেশের অনেক নাগরিককেই এখন ৩০ দিনের বেশি থাকতে হলে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। তবে থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ওপর ভিত্তি করে কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য এই ছাড়ের মেয়াদ ৩০ দিনের কম বা বেশিও হতে পারে।
আইন ও নিয়মনীতি প্রকাশের সরকারি গেজেট 'রয়্যাল গেজেট'-এ প্রকাশের ১৫ দিন পর এই নতুন ভিসা পদ্ধতি কার্যকর হবে।
এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য থাইল্যান্ড। দেশটির অর্থনীতির একটি বড় চালিকা শক্তি হলো এই পর্যটন খাত।
২০১৯ সালে দেশটিতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন পর্যটক এসেছিলেন। তবে মহামারির সময় এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং কেবল গত দুই বছরেই তা আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের নাগরিকসহ বিভিন্ন অপরাধে বেশ কয়েকজন বিদেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত এপ্রিলে থাই পুলিশ রাজধানী ব্যাংককে অনুমোদনহীন একটি আন্তর্জাতিক স্কুলে অভিযান চালিয়ে ১০ জন বিদেশিকে গ্রেপ্তার করে। ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতিপত্র ছাড়াই তারা সেখানে চাকরি করছিলেন।
