Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

কোকো গ্রিন: থাইল্যান্ডের আদলে প্রসেসড ডাব এখন বাংলাদেশে

থাইল্যান্ডের আদলে প্রক্রিয়াজাত ডাব পৌঁছে দেওয়াই কোকো গ্রিনের কাজ। ডাবকে তারা এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করে দেয় যে, কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই কেবল একটি স্ট্র বা ফুটো করার কাঠি ব্যবহার করে যে কেউ অনায়াসেই ডাবের সতেজ স্বাদ নিতে পারেন।
কোকো গ্রিন: থাইল্যান্ডের আদলে প্রসেসড ডাব এখন বাংলাদেশে

ফিচার

সুস্মিতা চক্রবর্তী মিশু
14 May, 2026, 09:00 pm
Last modified: 15 May, 2026, 08:45 am

Related News

  • যেকারণে কলা ঝুলিয়ে সংরক্ষণ করা জরুরি
  • দ্বিগুণ হয়েছে ফল আমদানি, তারপরও রমজানে দাম চড়া
  • জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে কর্মীদের ঘরে বসে কাজের আহ্বান
  • তিন বছরে তিন প্রধানমন্ত্রী ও যুদ্ধ, আজ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হচ্ছে থাইল্যান্ডে
  • থাইল্যান্ডে আবারও ক্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ২

কোকো গ্রিন: থাইল্যান্ডের আদলে প্রসেসড ডাব এখন বাংলাদেশে

থাইল্যান্ডের আদলে প্রক্রিয়াজাত ডাব পৌঁছে দেওয়াই কোকো গ্রিনের কাজ। ডাবকে তারা এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করে দেয় যে, কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই কেবল একটি স্ট্র বা ফুটো করার কাঠি ব্যবহার করে যে কেউ অনায়াসেই ডাবের সতেজ স্বাদ নিতে পারেন।
সুস্মিতা চক্রবর্তী মিশু
14 May, 2026, 09:00 pm
Last modified: 15 May, 2026, 08:45 am

ছবি: সৌজন্যপ্রাপ্ত

সালেহা বেগমের বয়স ৬৭-এর কোঠায়। স্বামীকে নিয়েই তার ছোট সংসার; একমাত্র সন্তান চাকরির সুবাদে থিতু হয়েছেন দেশের বাইরে। এই বয়সে এসে ঘর আর হাসপাতালের চক্কর কাটতে কাটতে তিনি যখন ক্লান্ত, ঠিক তখনই ডাক্তার দিলেন এক কড়া নির্দেশ- শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিন নিয়ম করে একটি ডাব খেতেই হবে।

নির্দেশ পাওয়া সহজ হলেও পালন করা বেশ কঠিন। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে এই বয়সে ডাব খাওয়া যেমন তার পক্ষে অসম্ভব, তেমনি আস্ত ডাব কিনে বাসায় এনে কাটার ঝক্কি সামলানোর মতো শারীরিক শক্তিও তার নেই। ডাব খাওয়ার উপায় যখন ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছিল, তখনই তিনি সন্ধান পেলেন 'কোকো গ্রিন'-এর। 

থাইল্যান্ডের আদলে প্রক্রিয়াজাত ডাব পৌঁছে দেওয়াই কোকো গ্রিনের কাজ। ডাবকে তারা এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করে দেয় যে, কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই কেবল একটি স্ট্র বা ফুটো করার কাঠি ব্যবহার করে যে কেউ অনায়াসেই ডাবের সতেজ স্বাদ নিতে পারেন।

সহজ করে বললে, প্রসেসড ডাব বা প্রক্রিয়াজাত ডাব—যা ডাবেরই একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন সংস্করণ। ভ্যানে করে বিক্রি হওয়া ডাবের বাইরের ভারী আর অমসৃণ সবুজ অংশটি মেশিনের সাহায্যে নিখুঁতভাবে ছেঁটে ফেলা হয়। এরপর সেটিকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে পাতলা প্লাস্টিকের শিট দিয়ে এমনভাবে প্যাকেটজাত করা হয়, যাতে ভেতরের প্রাকৃতিক গুণাগুণ একবিন্দুও নষ্ট না হয়।

খোলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডাব খেতে গেলে যেমন অপরিচ্ছন্নতা বা কাটার ঝক্কি থাকে, কোকো গ্রিন-এর এই প্রসেসড ডাবে তার কিছুই নেই। খাওয়ার সময় কোনো দা-বটির প্রয়োজন নেই; প্যাকেটটি খুলে দেওয়া বিশেষ কাঠি দিয়ে হালকা চাপ দিলেই ডাবের প্রাকৃতিক এবং মিষ্টি পানি পানের উপযোগী হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন দিয়ে শুরু!

সুজন আহমেদ আর রোকন-উদ-দৌলার হাত ধরে 'কোকো গ্রিন'-এর পথচলা শুরু হয় খানিকটা হঠাৎ করেই। ২০২০-২১ সালের দিকে দেশজুড়ে যখন অনলাইন ব্যবসার জোয়ার, তখন দুই বন্ধু মিলে ভাবছিলেন গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার কথা। চাকরির ফাঁকে আড্ডার মূল বিষয় ছিল এমন এক আইডিয়া খুঁজে বের করা, যেখানে প্রতিযোগিতা কম কিন্তু মানুষের প্রয়োজন অনেক।

শুরুতে সাধারণ কিছু পণ্য নিয়ে কাজ করলেও তাতে ঠিক মন বসছিল না। তারা খুঁজছিলেন মৌলিক কোনো আইডিয়া। সেই ভাবনা থেকেই মাথায় আসে 'প্রসেসড ডাব'-এর কথা। বাংলাদেশে তখন এই ধারণাটি একদমই নতুন। ধারণাটি মনে ধরলেও সংশয় ছিল, মানুষ কি আস্ত ডাব ছেড়ে এই প্রক্রিয়াজাত ডাব কিনবে? থাইল্যান্ডে প্রসেসড ডাবের ধারণা বিপুল জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশের মানুষ কি তা গ্রহণ করবে?

বাজার যাচাইয়ের জন্য একদিন তেমন কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই একটি ফেসবুক পেজ খুলে ভিডিও আপলোড করে বিজ্ঞাপন দিলেন তারা। ফলাফল যা এলো, তা ছিল অবিশ্বাস্য!

সামান্য খরচের সেই বিজ্ঞাপনে মানুষের সাড়া ছিল দেখার মতো। রাতারাতি অজস্র মানুষের আগ্রহ দেখে সুজন ও তার বন্ধু নিশ্চিত হলেন যে, তারা ঠিক পথেই আছেন। সেই এক রাতের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই তারা শুরু করলেন কোকো গ্রিন-এর যাত্রা।

শুরুটা হয়েছিল খুব ছোট পরিসরে। বিজ্ঞাপন দেখে যখন প্রথম অর্ডার আসতে শুরু করল, তখন তাদের না ছিল উন্নত যন্ত্রপাতি, না ছিল নিখুঁত ফিনিশিং। সুজন আর রোকন নিজেদের হাতেই কোনোমতে ডাবের খোসা ছাড়িয়ে গ্রাহকের ঠিকানায় পাঠাতেন।

অনলাইনে নতুন এই প্রক্রিয়াজাত ডাব দেখে শুরুতে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন উঁকি দিত। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগত, প্রাকৃতিক আবরণ ছাড়া ডাব সতেজ থাকবে তো? কেউ কেউ তো পানির বিশুদ্ধতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করতেন। তবে মানসম্মত পণ্য আর গ্রাহকদের ইতিবাচক প্রচারণায় সেই মেঘ কাটতে বেশি সময় লাগেনি।

শুরুতে আড়ত থেকে ডাব কিনতে গিয়ে দুই বন্ধুকে বেশ চড়া মাশুল দিতে হয়েছিল। ডাবের বাইরের চেহারা দেখে ভেতরের পানির পরিমাণ বা শাঁসের অবস্থা বোঝা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমদিকে লক্ষ্মীপুর থেকে কম দামে ১,০০০টি ডাব আনিয়ে বড় বিপাকে পড়েন তারা। 

সুজন সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে বলেন, "লক্ষ্মীপুর থেকে আনা ডাবের মধ্যে প্রায় ৭০০টি ছিল শক্ত শাঁসের। প্রসেসড ডাব হিসেবে সেগুলো বিক্রির একদমই অনুপযুক্ত ছিল।" 

কিন্তু শক্ত শাঁস হলেই তো তা ফেলে দিতে পারেন না। তখন গ্রাহকের কাছে খারাপ পণ্য না পাঠিয়ে তারা সেই ডাবগুলো দিয়ে পুডিং তৈরির অভিনব এক পরিকল্পনা বের করেন।

দ্বীপজেলা ভোলা থেকে আসে ডাব

বর্তমানে কোকো গ্রিন-এর ডাব মূলত আসে দ্বীপজেলা ভোলা থেকে। স্থানীয় বাগান মালিকদের সঙ্গে একটি চেইন গড়ে তুলেছেন তারা। বাগান থেকে সরাসরি সংগৃহীত এসব ডাব চলে আসে ঢাকার কারওয়ান বাজারে কোকো গ্রিন-এর নিজস্ব আড়তে।

আলাদা করে আড়ত দেওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল পণ্যের গুণমান ধরে রাখা। সুজনের মতে, অন্যদের কাছ থেকে ডাব নিলে প্রতিদিন একই মানের নিশ্চয়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এখন তারা নিজেরাই প্রতিটি ডাব যাচাই-বাছাই করেন এবং আকার ও পানির পরিমাণ অনুযায়ী সেগুলোকে আলাদা বা গ্রেডিং করেন। 

কারওয়ান বাজারের আড়ত থেকে সেরা মানের ডাবগুলো চলে যায় গাবতলীতে তাদের নিজস্ব কারখানায়। সেখানে দক্ষ কারিগরদের হাতে ডাবের বাইরের খোসা ছাড়িয়ে সেগুলোকে গ্রাহকের জন্য একদম 'রেডি' বা ইজি-টু-কাট ডাবে রূপান্তর করা হয়।

কোকো গ্রিন-এর ডাবে কোনো কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ বা রাসায়নিক থাকে না। তাই সাধারণ তাপমাত্রায় এটি ২-৩ দিন টিকলেও ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে ৭ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে। তবে স্বাদের পূর্ণ তৃপ্তি পেতে প্রতিষ্ঠানটি ৭ দিনের মধ্যেই তা পান করার পরামর্শ দেয়।

নিতে হবে একসাথে ৬টি ডাব

অনেকের মনেই একটা কৌতূহল থাকে, ডাব কি আগে থেকেই ফুটো করা থাকে? উত্তর হলো, 'না'।

আগে থেকে ফুটো করলে ডাবের পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। শুরুতে তারা চীন থেকে বিশেষ এক ধরনের টুল বা স্ট্র আনিয়েছিলেন, যা দিয়ে ডাবের মুখে সামান্য চাপ দিলেই সহজে ছিদ্র হয়ে যায়। বর্তমানে তারা আর আমদানির ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই ফুড-গ্রেড প্লাস্টিক দিয়ে এই বিশেষ সরঞ্জামটি তৈরি করছেন। প্রতিটি ডাবের সঙ্গেই এই টুলটি দেওয়া হয়, যাতে গ্রাহক ঘরে বসে কোনো রকম ঝক্কি ছাড়াই অনায়াসে ডাবের টাটকা পানি পান করতে পারেন।

প্রতিটি ডাব যেন সতেজ থাকে, সেজন্য কোকো গ্রিন এক নিখুঁত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভোলা থেকে ডাববোঝাই ট্রাক রওনা দেয় এবং মধ্যরাতে কারওয়ান বাজারে পৌঁছায়। রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে বাছাই শেষে ডাব পাঠিয়ে দেওয়া হয় গাবতলীর ফ্যাক্টরিতে, যেখান থেকে সকালে তা পৌঁছে যায় গ্রাহকের ঠিকানায়। 

ভোররাত থেকে ফ্যাক্টরিতে প্রসেসিং বা খোসা ছাড়ানোর কাজ শুরু হয়, যা চলে সকাল ৯টা পর্যন্ত। এরপরই শুরু হয় ডেলিভারি। 

অর্থাৎ, যে ডাবটি রাতে ঢাকা শহরে ঢুকেছে, সেটিই প্রসেস হয়ে সকালের মধ্যে গ্রাহকের দরজায় পৌঁছে যায়। সাধারণত বেলা ৩টা পর্যন্ত আসা অর্ডারগুলো তারা ওই দিনই ডেলিভারি দিয়ে থাকেন।

বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে কোকো গ্রিন তাদের ডাবের দাম নির্ধারণ করে। বর্তমানে তারা মূলত দুই ধরনের ডাব সরবরাহ করছেন। মাঝারি সাইজের ডাবের দাম ধরেছেন পিস প্রতি ১৪০ টাকা। আর বড় সাইজের ডাব পিস প্রতি ১৬০ টাকা। যেহেতু সাধারণ নিয়মে একসাথে ৬টি ডাব অর্ডার দিতে হয়, সেক্ষেত্রে বক্স প্রতি দাম দাঁড়ায় ৮৪০ টাকা থেকে ৯৬০ টাকা। 

ডাবের ওজন বেশি হওয়ায় ডেলিভারি খরচ কমাতে কোকো গ্রিন গড়ে তুলেছে নিজস্ব রাইডার টিম। বর্তমানে কারখানায় প্রসেসিংয়ের কাজ সামলান ৭ জন কর্মী, আর ৬ জন ডেডিকেটেড রাইডার দ্রুততম সময়ে গ্রাহকের হাতে পণ্য পৌঁছে দেন।

কোকো গ্রিন থেকে ডাব নিতে হলে সর্বনিম্ন ৬টি ডাব নিতে হবে। তবে গ্রাহকের অনুরোধে অনেক সময় ৩ পিসের হাফ-বক্সও পাঠানো হয়। অনেক গ্রাহক আছেন যারা ইতোমধ্যে ৫০ বারের বেশি অর্ডার করেছেন। 

এখন আর দীর্ঘ আলাপের প্রয়োজন হয় না, হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকে কেবল একটি মেসেজ—"৬টি ডাব পাঠিয়ে দিন"- ব্যাস, তাতেই কাজ হয়ে যায়। এক বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিত ডাব নিচ্ছেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা এখন অসংখ্য।

ডাবের সঙ্গে দেওয়া হয় ফুটো করার সরঞ্জাম

প্রতিদিন বিক্রি গড়ে ৮০০ থেকে ১০০০ পিস ডাব!

প্রতিদিন এখন গড়ে ৮০০ থেকে ১,০০০ পিস ডাব গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে যাচ্ছে কোকো গ্রিন- এর হাত ধরে। তবে এই অবস্থানে আসাটা মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতে যখন দিনে মাত্র ১০-১৫টি ডাব বিক্রি হতো, তখন মান যাচাই করা ছিল সহজ। কিন্তু বিক্রি যখন হাজারে ঠেকলো, তখন প্রতিটি ডাবের নিখুঁত মান বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, একটি ডাবও যদি খারাপ পড়ে, তবে সেই গ্রাহকের আস্থা ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অনলাইনের ব্যবসায় এই আস্থার জায়গাটি ধরে রাখাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কোকো গ্রিন-এর গ্রাহক তালিকাও এখন বেশ বিস্তৃত। সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতাল, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ঢাকা ক্লাব, বোট ক্লাব সহ স্বনামধন্য কিছু ক্লাব, বিভিন্ন জিমও তাদের গ্রাহক। কোকো গ্রিন-এ প্রক্রিয়াজাত ডাবের পাশাপাশি পাওয়া যায় ডাবের পুডিং, নারকেল বরফি, নারকেল দুধ, ডাবের শাঁস, খেঁজুর গুড়ের নারকেল নাড়ু, কোড়ানো নারকেল সহ আরো অনেক কিছু।

কোকো গ্রিন-এর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের সন্তুষ্ট গ্রাহকরা। 

ক্রেতা মাহমুদা খানম জাহান বলছিলেন, "ডাব এখন আমাদের নিয়মিতই অর্ডার করা হয়। পানিটা প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি, আর হাসপাতাল থেকে ফিরে একটা খেলে খুব ফ্রেশ লাগে।" 

ব্যস্ত জীবনে বাজার থেকে ভারি ডাব বয়ে আনা আর তা কাটার ঝামেলা অনেক। কোকো গ্রিন সরাসরি গ্রাহকের ড্রয়িং রুম পর্যন্ত ফ্রেশ ডাব পৌঁছে দিয়ে তাদের সেই সময় আর শ্রম বাঁচিয়ে দিচ্ছে।

আরেক নিয়মিত গ্রাহক সাবরিনা জাহানের অভিজ্ঞতাও একই রকম। সরকারি চাকরিজীবী সাবরিনা জানান, "কোকো গ্রিনের ডাবের পুডিংয়ে একদম আসল স্বাদ পাওয়া যায়। অফিসের সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করার পর ওরাও খুব পছন্দ করেছে।" 

কোকো গ্রিন অনেক প্রবাসীর কাছেও ভরসার জায়গা। আমেরিকায় অবস্থান করা সামিউল আলম জানান, "গত ৬ মাস ধরে নিয়মিত ডাব কিনছি। তাদের বিশ্বস্ততা, ভালো সার্ভিস, পণ্যের মান, দ্রুত ডেলিভারি এবং সহজ রিফান্ড ব্যবস্থা সত্যিই প্রশংসনীয়।"

ডাবের মান নিশ্চিত করতে সুজন আহমেদ দেশের প্রায় প্রতিটি প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে নিজে ঘুরেছেন। তিনি দেখেছেন, অঞ্চলভেদে ডাবের স্বাদ ও ধরন বদলে যায়। সেরা ডাবটি খুঁজে পেতে তাকে সরাসরি বাগান মালিক ও চাষীদের সাথে কাজ করতে হয়েছে, বুঝতে হয়েছে ঠিক কোন বয়সের ডাব প্রক্রিয়াজাতের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

মাসিক আয় এখন ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা!

অনলাইন অর্ডারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বড় কৌতুহল থাকে পানির পরিমাণ নিয়ে। কেউ হয়তো জানতে চাইলেন ডাবে কতটুকু পানি আছে—৫০০ মিলিলিটার বলা হলেও প্রকৃতির সব ডাব তো আর এক সমান হয় না। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোকো গ্রিন এখন সোর্সিং বা সংগ্রহের সময়ই কড়া নিয়ম মেনে চলে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তারা এখন ডাবের আকার ও ওজন দেখেই ভেতরের পানির পরিমাণ আঁচ করতে পারেন। এই নিখুঁত বাছাই প্রক্রিয়াই তাদের গ্রাহক সন্তুষ্টির হার অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

কোকো গ্রিন-এর শুরুটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। কোনো বিশাল পুঁজি নয়, মাত্র ৬,০০০ টাকা ভাড়ার ছোট্ট একটি ঘর থেকে দুই বন্ধু এই স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন। আজ গ্রাহকের আস্থায় ব্যবসার পরিধি বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রসেসিং মেশিন, ডেলিভারি বাইকসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে বর্তমানে প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। আর প্রতি মাসে এখন আয় হচ্ছে প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকা। বাজার ও সরবরাহের কারণে আয়ের অংক মাঝে মাঝে ওঠানামা করলেও, তারা এখন একটি স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছেছেন।

কোকো গ্রিন কেবল ডাব বিক্রিতেই থেমে থাকতে চায় না। তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। বর্তমানে ডাবের খোসা ফেলার জন্য তাদের মাসে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। তারা এই খোসা বা ডাস্ট থেকে 'কোকোপিট' (এক ধরনের জৈব সার) তৈরির পরিকল্পনা করছেন, যার বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ঢাকামুখী কাজ হলেও ভবিষ্যতে সারা বাংলাদেশে কারখানা তৈরি করে নিজেদের পণ্য ছড়িয়ে দিতে চায় কোকো গ্রিন।


ছবি: সৌজন্যেপ্রাপ্ত

Related Topics

টপ নিউজ

ডাব / ডাবের পানি / প্রক্রিয়াজাত ডাব / ফল / থাইল্যান্ড

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস
    সুপারমার্কেটে বাড়ছে ভিড়: মধ্যবিত্তের কেনাকাটার ধরনে বড় পরিবর্তন
  • প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
    পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করল বিজেপি সরকার, লাগবে সরকারি সনদ
  • আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এসব কথা বলেন। ছবি: জহির রায়হান/টিবিএস
    সৌরবিদ্যুতে পাকিস্তানের মডেল অনুসরণ করা যায়, ৫ বছরের ‘কর অবকাশ’ দেওয়ার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
  • ছবি: ফোকাস বাংলা নিউজ
    বিয়ের সানাইয়ের বদলে রাঙ্গুনিয়ায় শোকের মাতম: ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে বাংলাদেশি ৪ ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার
  • ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
    ভারতে প্রবল বাতাস ৫০ ফুট উঁচুতে উড়িয়ে নিয়ে গেল ব্যক্তিকে, ভাঙল হাত-পা
  • ফাইল ছবি: বাসস
    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: একক গ্রুপকে আরও বেশি ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক  

Related News

  • যেকারণে কলা ঝুলিয়ে সংরক্ষণ করা জরুরি
  • দ্বিগুণ হয়েছে ফল আমদানি, তারপরও রমজানে দাম চড়া
  • জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে কর্মীদের ঘরে বসে কাজের আহ্বান
  • তিন বছরে তিন প্রধানমন্ত্রী ও যুদ্ধ, আজ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হচ্ছে থাইল্যান্ডে
  • থাইল্যান্ডে আবারও ক্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ২

Most Read

1
ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস
অর্থনীতি

সুপারমার্কেটে বাড়ছে ভিড়: মধ্যবিত্তের কেনাকাটার ধরনে বড় পরিবর্তন

2
প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করল বিজেপি সরকার, লাগবে সরকারি সনদ

3
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এসব কথা বলেন। ছবি: জহির রায়হান/টিবিএস
বাংলাদেশ

সৌরবিদ্যুতে পাকিস্তানের মডেল অনুসরণ করা যায়, ৫ বছরের ‘কর অবকাশ’ দেওয়ার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

4
ছবি: ফোকাস বাংলা নিউজ
বাংলাদেশ

বিয়ের সানাইয়ের বদলে রাঙ্গুনিয়ায় শোকের মাতম: ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে বাংলাদেশি ৪ ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

5
ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
আন্তর্জাতিক

ভারতে প্রবল বাতাস ৫০ ফুট উঁচুতে উড়িয়ে নিয়ে গেল ব্যক্তিকে, ভাঙল হাত-পা

6
ফাইল ছবি: বাসস
অর্থনীতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: একক গ্রুপকে আরও বেশি ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক  

The Business Standard
Top

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net

Copyright © 2022 THE BUSINESS STANDARD All rights reserved. Technical Partner: RSI Lab