বিয়ের সানাইয়ের বদলে রাঙ্গুনিয়ায় শোকের মাতম: ওমানে গাড়ির ভেতর থেকে বাংলাদেশি ৪ ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের বন্দেরাজার পাড়া এলাকায় এখন শুধুই বিষাদের ছায়া। শুক্রবারের ফ্লাইটে কাতার থেকে ছোট দুই ভাই মুহাম্মদ সিরাজ ও মুহাম্মদ শহিদের দেশে ফেরার কথা ছিল। প্রবাসের দীর্ঘ হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে এই দুই ভাইকে বিয়ে দিয়ে ঘরে নতুন বউ তোলার রঙিন স্বপ্নে বিভোর ছিল পুরো পরিবার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দঘন মুহূর্ত এখন শোকে পরিণত হয়েছে।
বুধবার রাতে ওমানের আল মিলাদ্দাহ এলাকায় পার্কিংয়ে রাখা একটি প্রাইভেট কারে ওই দুই ভাইসহ তাদের আরও দুই বড় ভাই মুহাম্মদ রাশেদ ও মুহাম্মদ সাহেদ প্রাণ হারান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের গ্যাস লিক বা বিস্ফোরণের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের প্রতিবেশী মাওলানা মো. ইদ্রিস টিবিএসকে বলেন, সিরাজ ও শহিদ দেশে ফিরলেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। সেই শুভ মুহূর্তের প্রস্তুতি হিসেবেই চার ভাই মিলে প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য শপিং মলে যাচ্ছিলেন। বড় দুই ভাই রাশেদ ও সাহেদ বিবাহিত ছিলেন।
ঘটনাটি ওমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী এক ভিডিও বার্তায় জানান, গতকাল সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে সেখান থেকে তারা মিলাদ্দাহর দিকে রওনা দেন। সেখানে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকেই তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রাত আটটার পর তাদের একজন বারকা এলাকায় থাকা এক স্বজনকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানান যে তারা খুবই অসুস্থ এবং গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। পাশাপাশি তারা অবস্থানের লোকেশনও পাঠান। পরে রাতে মিলাদ্দাহ এলাকায় পার্ক করা গাড়ির ভেতর চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় দুই বাংলাদেশি পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ এসে গাড়ির দরজা খুলে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে রাঙ্গুনিয়ার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে মা ছেলেদের বিয়ের সানাই শোনার অপেক্ষায় ছিলেন, তিনি এখন চার সন্তানের লাশের অপেক্ষায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বড় দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তানদের কান্নায় পুরো বন্দেরাজার পাড়া এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
