মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের দন্ড সুদের হার ০.৫ শতাংশে নামিয়ে আরো সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
এখন থেকে নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধ না করলে— ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত সুদ বা দণ্ড সুদ আগের চেয়ে কম হারে আরোপ করতে পারবে। তাতে এখন থেকে কোনো ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ০.৫ শতাংশ দন্ড সুদ নিতে পারবে ব্যাংক, আগে যা ছিল ১.৫০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বুধবার (১৩ মে) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৪ সালের মে মাসে সার্কুলার জারি করে দন্ড সুদের হার ১.৫০ শতাংশ করার নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তি সম্পূর্ণ বা আংশিক মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলে—যে সময়ের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ হবে, ওই সময়ে চলমান ও তলবি ঋণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্থিতির ওপর এবং মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির ওপর সর্বোচ্চ ০.৫ শতাংশ হারে দণ্ড সুদ আরোপ করা যাবে।
ব্যাংকাররা বলছেন, মূলত দন্ড সুদ বেশি রাখা হয় যেন গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করে। কারণ দন্ড সুদ বেশি থাকলে, গ্রাহকদের সময়মতো অর্থ পরিশোধ করার এক রকম চাপ থাকে। তাই ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে দন্ড সুদ বেশি রাখা হয়। তবে দন্ড সুদ পুরো ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে আনাটা আসলে ব্যাংকগুলোর জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ জরিমানা কম ধরলে বিলম্ব করার সুযোগ তৈরি হয়, যা ব্যাংক কখনো চায় না।
@সমালোচনা করছেন ব্যাংকাররা
এ ধরণের সুবিধা ব্যাংকিংখাতে খেলাপি ঋণ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যাংকাররা। তারা বলছেন, বর্তমানে ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এমনিতেই বেশি। তার মধ্যে এত সুবিধা দিলে তা আরো বেড়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিবিএসকে বলেন, "বর্তমানে সুদের হার সাড়ে ১৪ শতাংশ রয়েছে, দন্ড সুদ কমিয়ে দেওয়ার কারণে অনেক ব্যাংক এটা সাড়ে ১৫ শতাংশ করতে পারে। ফলে এর প্রভাব পড়বে ঋণ গ্রহীতার ওপরই।"
আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, "এ ধরণের নীতি ব্যাংকের মুনাফার ওপর চাপ বাড়াবে। যেসব ব্যবসায়ীরা ঠিক মতো টাকা দেয় না, তারাও উৎসাহিত হবেন।"
অন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, "ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ব্যাংকের জন্য ঝামেলা তৈরি হয়। যারা ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ করেই, এই সিদ্ধান্তে তাদের খরচ আরো কমল। তাছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের সময়সীমা ২০২৪ সাল থেকে তিন মাস দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জ্যপূর্ণ। তবে ব্যবসায়ীরা আবার দাবি করছেন সেটা ছয় মাস করার জন্য, যা একদম ঠিক নয়। এতে খেলাপি ঋণ আরো বাড়তে পারে।"
তিনি আরো বলেন, সামনে আইএফআরএস-৯ অনুসরণ করতে হবে, তখন আর লাভ হবে না। যারা আসলে ভালো ব্যবসায়ী, তারা এই ধরণের সুযোগ চান না। ভালো ব্যবসায়ীরা সময়মতোই ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করছেন।"
আইএফআরএস-৯ হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড (আইএএসবি) জারিকৃত একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান। এটি আর্থিক সম্পদ ও দায়ের শ্রেণিবিন্যাস, পরিমাপ এবং লোকসানের হিসাব পদ্ধতি নির্ধারণ করে। এটি মূলধনী লোকসান আগেই অনুমান করে হিসাবভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।
