চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার; অপমৃত্যুর মামলা
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের আকবর শাহ থানার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে। কাউসার বিএসআরএম কারখানায় খণ্ডকালীন পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন।
চাকরির সুবাদে তিনি চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার আকবর শাহ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। মা ও তিন ভাইকে নিয়ে একই বাসায় থাকতেন কাউসার। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো। তার বাবা আবুল কাশেম মারা গেছেন। মা পারভীন আক্তার। তাদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকিরচর এলাকায়।
স্থানীয়রা ফ্লাইওভারের ওপর কাউসারের মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউসারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নুরুল আবছার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি। পরিবার জানিয়েছে, কাউসার দীর্ঘদিন ধরে মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, কাউসারকে অপহরণের পর হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা তালুকদার পারভেজ আনসারী অভিযোগ করে বলেন, 'বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগ করার কারণে কাউসারকে অপহরণ করে হত্যা করেছে। পরে তার মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়।'
স্থানীয়দের ধারণা, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই কাউসার হামলার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
