পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: ঘাতক সোহেলের স্বীকারোক্তি, স্ত্রী কারাগারে
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২০ মে) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামিদের আদালতে হাজির করেন। সোহেল রানা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
শিশু রামিসাকে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল: পুলিশ
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পৃথক এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজ ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার বাবা-মা তাকে স্কুলে নেওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করলে একপর্যায়ে আসামির কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান।
স্বজনরা ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান।
হত্যাকাণ্ডের পর সোহেল রানা কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছিলেন।
আদালতে শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
