অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক মজুত রেকর্ড সর্বনিম্নের দিকে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায়, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত রেকর্ড পরিমাণ তলানিতে নামার দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন গোল্ডম্যান স্যাকসের পণ্য বাজার বিশ্লেষকরা। এখানে মজুত বলতে বিভিন্ন দেশের কাছে থাকা মজুতকে বোঝানো হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই বিশ্লেষকরা একটি নোটে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেল সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করলেও, মজুত কমার এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তারা আরও বলেন, আগামী মে মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও, বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত হ্রাসের এই প্রবণতা মে এমনকি জুন মাস পর্যন্ত প্রলম্বিত হবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে এপর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকদের দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল কেবল অপরিশোধিত তেলেরই উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল জানিয়েছিলেন, অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত পণ্য মিলিয়ে—তেলের রপ্তানি প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ব্যারেল কমে গেছে। তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধে এই অঞ্চলে ৮০টিরও বেশি তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
এদিকে যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, তেল উৎপাদন তত বেশি ব্যাহত হবে। আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নোমুরা চলতি মাসের শুরুতে সতর্ক করে বলেছিল, মার্চ মাসে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন দৈনিক ৯৩ লাখ ব্যারেল কমেছে, যা সরবরাহের ক্ষেত্রে ৫৭ শতাংশের এক চরম উদ্বেগজনক ঘাটতির সমতুল্য।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই উৎপাদন পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে। কেউ কেউ এমনও বলছেন যে, উৎপাদনের স্বাভাবিক হার ফিরে আসতে এ বছরের শেষ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। আইইএ-র প্রধান ফাতিহ বিরলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদনের স্বাভাবিক হার ফিরিয়ে আনতে প্রকৃতপক্ষে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার এই সময়সীমা একেক দেশের ক্ষেত্রে একেক রকম হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদাহরণস্বরূপ, উৎপাদন যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের তুলনায় ইরাকের অনেক বেশি সময় প্রয়োজন হবে।
