শুক্রবার আসতে পারে নতুন শান্তি আলোচনার খবর: ট্রাম্প; হরমুজ থেকে ২ জাহাজ জব্দের দাবি আইআরজিসির
শুক্রবার আসতে পারে নতুন শান্তি আলোচনার খবর: ট্রাম্প
'যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে আগামী শুক্রবারের মধ্যেই সুসংবাদ আসতে পারে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) 'দ্য পোস্ট'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পাকিস্তানি সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসলামাবাদের সূত্রগুলো তেহরানের সাথে ইতিবাচক মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছে। এর ফলে আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই খবরটি এমন সময়ে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ইরানের সাথে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। ইরানের বিভক্ত নেতৃত্ব যতক্ষণ না একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারছে, ততক্ষণ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমি… আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার এবং অন্যান্য সমস্ত ক্ষেত্রে প্রস্তুত ও সক্ষম থাকার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের প্রস্তাব জমা না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা কোনো একটি সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে দিচ্ছি।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
হরমুজে জাহাজে হামলা: সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করল 'বিবিসি ভেরিফাই'
জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে আজ সকালে হরমুজ প্রণালিতে আক্রান্ত তিনটি কার্গো জাহাজের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করেছে 'বিবিসি ভেরিফাই'।
মেরিনট্রাফিক-এ প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী— ইউফোরিয়া, এমএসসি ফ্রান্সেসকা এবং এপামিনন্ডাস নামের তিনটি জাহাজই হামলার খবর পাওয়া মাত্র তাদের দিক পরিবর্তন করেছিল।
এই জাহাজ চলাচলের তথ্য যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের দেওয়া তথ্যের সাথে মিলে গেছে। এছাড়া, মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা 'ভ্যানগার্ড' জাহাজ এমএসসি ফ্রান্সেসকার ওপর হামলার যে সময়ের কথা বিবিসি ভেরিফাইকে জানিয়েছে, জাহাজটির দিক পরিবর্তনের সময়টিও হুবহু মিলে যাচ্ছে।
তবে অবস্থান সংক্রান্ত এই তথ্যের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক সময় জাহাজগুলো তাদের ট্র্যাকার বন্ধ করে রাখে কিংবা ভুল অবস্থান প্রচার করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, যাকে প্রযুক্তিগত ভাষায় 'স্পুফিং' বলা হয়।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা এমএসসি ফ্রান্সেসকা এবং এপামিনন্ডাস জাহাজ দুটিকে জব্দ করেছে। তবে ইউফোরিয়া জাহাজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
হরমুজ প্রণালিতে ঘটে যাওয়া এই তিনটি ঘটনার সম্ভাব্য অবস্থান নিচের মানচিত্রে দেখানো হলো:
ইরানের জন্য কোনো 'উপহার' ছিল না আটক জাহাজে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান চীনের
ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক জাহাজে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ইরানের জন্য কোনো 'উপহার' ছিল না বলে আবারও সাফ জানিয়ে দিয়েছে চীন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগের একদিন পরই বেইজিং এই প্রতিক্রিয়া জানাল।
জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, জাহাজটি চীন থেকে ইরানে যাচ্ছিল এবং এতে মিসাইল তৈরির রাসায়নিক উপাদান ছিল।
ট্রাম্পের মন্তব্য মূলত হ্যালির সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই এসেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে হ্যালির অভিযোগের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, 'আটককৃত যানটি ছিল একটি বিদেশি কন্টেইনার জাহাজ।'
একই সঙ্গে চীন যেকোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক সংশ্লিষ্টতা এবং জল্পনা-কল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন আরও বলেন, 'একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে চীন সর্বদা তার যথাযথ আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি পালনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ইরান: ইসমাইল বাগাই
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা যুদ্ধবিরতির অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইরান বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বাগাইকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরান প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এর আগে গত রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি ইরানের বর্তমান সরকারকে গুরুতরভাবে বিভক্ত বলে অভিহিত করেন।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বাগাই বলেন, কূটনীতি হলো জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি হাতিয়ার। আমরা যখনই মনে করব যে এই হাতিয়ারটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত পরিবেশ বিদ্যমান, তখনই আমরা পদক্ষেপ নেব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
হরমুজে গুলি চালানোর আগে জাহাজটিকে সতর্ক করা হয়েছিল: ইরানি গণমাধ্যম
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার যে খবর পাওয়া গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখন একটি সর্বশেষ তথ্য পাওয়া গেছে।
পূর্বের তথ্যানুযায়ী, ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে গুলি চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি 'গানবোট'। বিবিসি ভেরিফাই-এর তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজটি গ্রিসের পতাকাবাহী 'এপামিনন্ডাস'।
তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম 'নূর নিউজ' জাহাজটির ক্যাপ্টেনের দেওয়া বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেছে। জাহাজের ক্যাপ্টেন ইউকেএমটিও-র কাছে দাবি করেছিলেন যে, তাদের কোনো আগাম রেডিও সতর্কতা দেওয়া হয়নি।
এর বিপরীতে ইরানি সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর দেওয়া সতর্কতা 'উপেক্ষা' করেছিল জাহাজটি।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরান: আইআরজিসি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি থেকে দুটি জাহাজ জব্দ করে ইরানি উপকূলে নিয়ে গেছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ইরানের জন্য একটি 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে বিবেচিত।
এর আগে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, ইরানের উপকূলে একটি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে এবং ওমান উপকূলে হামলার শিকার হয়ে অন্য একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে ৩টি কন্টেইনার জাহাজে হামলা
হরমুজ প্রণালিতে বুধবার একদিনে অন্তত তিনটি কন্টেইনার জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে একটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে বন্দুক এবং রকেট-চালিত গ্রেনেড (আরপিজি) দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজটির ওপরের অংশ (ব্রিজ) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউকেএমটিও-র তথ্য অনুযায়ী, তিন সদস্যের একটি ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) 'গানবোট' জাহাজটির কাছে গিয়ে সরাসরি হামলাটি চালায়। তবে এই ঘটনায় জাহাজে কোনো আগুন লাগেনি এবং সব ক্রু সদস্যই নিরাপদ রয়েছেন।
গ্রিক পরিচালিত ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, হামলার আগে কোনো ধরনের রেডিও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। অথচ শুরুতে তাদের জানানো হয়েছিল যে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
ইউকেএমটিও পরবর্তীতে জানায়, ইরানের পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল দূরে একটি পানামার পতাকাবাহী এবং আরেকটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজেও গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ সাগরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়লেও কোনোটিতেই নতুন করে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সব নাবিকরা নিরাপদে আছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে দ্বিতীয় জাহাজে হামলা
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এক দিনে এটি দ্বিতীয় কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা।
ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি জানায়, ইরান উপকূল থেকে ৮ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে একটি বহির্গামী মালবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বর্তমানে জাহাজটি সমুদ্রের মাঝপথে থেমে আছে। তবে হামলায় জাহাজের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং এর নাবিক ও কর্মীরা সবাই 'নিরাপদ ও অক্ষত' আছেন।
ইউকেএমটিও এক বিবৃতিতে বলেছে, 'আমরা হরমুজ প্রণালি এলাকায় ব্যাপক মাত্রার সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করছি। এই পথে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে এবং কোনো অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখলে তা দ্রুত রিপোর্ট করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।'
এর আগে ওমান থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি গানবোট।
ইউকেএমটিও-র তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় জাহাজটির চালক কক্ষের (ব্রিজ) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মূলত এরপরই দ্বিতীয় এই গুলিবর্ষণের খবর এল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
হরমুজ প্রণালির কাছে কন্টেইনার জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বুধবার ভোরে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের একটি গানবোট। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি গানবোট কোনো ধরনের আগাম রেডিও সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ জাহাজটির কাছে আসে এবং সরাসরি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এই হামলায় কন্টেইনার জাহাজটির ওপরের অংশ (ব্রিজ) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার শিকার হলেও জাহাজের সকল ক্রু বা নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। জাহাজে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে আক্রান্ত জাহাজের নাম, এটি কোন দেশের পতাকাবাহী অথবা বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই এলাকায় এটি সর্বশেষ হামলার ঘটনা। গত শনিবার ভারত জানিয়েছিল যে, তাদের দুটি পতাকাবাহী জাহাজও এই এলাকায় হামলার শিকার হয়েছে। আইআরজিসি আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা এই জলপথটি বন্ধ রাখবে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
অবরোধ প্রত্যাহার করলেই ফের আলোচনায় বসব: জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি জানিয়েছেন, নতুন কোনো দফার আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই 'যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন' বন্ধ করতে হবে। ইরানি সংবাদমাধ্যম 'শার্ঘ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
ইরাভানি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র যখনই তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেবে, তখনই ইসলামাবাদের পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।' তিনি আরও যোগ করেন, ইরান যেকোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে রাষ্ট্রদূত বলেন, 'আমরা কখনোই সামরিক আগ্রাসন আগে শুরু করিনি। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যদি রাজনৈতিক সমাধান চায়, তবে আমরা প্রস্তুত। আর যদি তারা যুদ্ধ চায়, ইরান সেটির জন্যও প্রস্তুত।'
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন করে অস্ত্রসজ্জিত হচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তাদের বাহিনী নতুন করে অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং সামরিক কৌশল ঢেলে সাজাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন সেনারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও কমান্ড নিশ্চিত করেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী বর্তমানে তাদের রণকৌশল, কারিগরি পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়াসমূহ নতুনভাবে সাজাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, 'বিশ্বের আর কোনো সেনাবাহিনী আমাদের মতো দ্রুত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে না। এই যুদ্ধবিরতির সময়ে আমরা ঠিক সেই কাজটাই করছি।'
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরাকে ডলার সরবরাহ ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের দমনে বাগদাদ সরকারকে চাপে ফেলতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ইরাকে মার্কিন ডলারের চালান পাঠানো স্থগিত করার পাশাপাশি দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচিও স্থগিত করেছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা ইরাকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ব্যাংকনোট পাঠানোর প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে। এই অর্থ মূলত ইরাকের তেল বিক্রির আয়। তবে এ বিষয়ে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বা ফেডারেল রিজার্ভও কোনো মন্তব্য করেনি।
ডলার সরবরাহের পাশাপাশি ওয়াশিংটন বাগদাদকে জানিয়েছে যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত মিলিশিয়াদের হামলা বন্ধ হচ্ছে এবং ইরাকি কর্তৃপক্ষ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাউন্টার-টেররিজম ও সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত তহবিল স্থগিত থাকবে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে বাগদাদে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর ইরাকি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা বেশ কিছু ড্রোন হামলার জন্য ইরান-ঘনিষ্ঠ 'সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের' দায়ী করে আসছে ওয়াশিংটন।
তথ্যসূত্র: গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান, অভিযোগ 'সদিচ্ছার অভাবের'
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণার আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবিসি-কে জানিয়েছিল যে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিবিসি-র প্রধান আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি লিস ডুসেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান ইসলামাবাদের প্রথম দফার আলোচনায় 'অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবং সদিচ্ছা নিয়ে' অংশ নিয়েছিল। কিন্তু অপর পক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র) তাদের আচরণে আলোচনার প্রতি গুরুত্বের অভাব এবং অসৎ উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছে।
বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের 'ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন' এবং 'যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের হুমকির' দিকেও আঙুল তোলেন। মূলত গত দুই দিনে ট্রাম্পের ধারাবাহিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের 'ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত' প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে তিনি দেশটির 'প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস' করে দেবেন।
এদিকে, হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার রাতে নিশ্চিত করেছে যে, দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা হলে, তেল উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হবে: ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হয়, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস কমান্ডার মজিদ মৌসাভি বলেছেন, 'আমাদের দক্ষিণী প্রতিবেশীদের জানা উচিত, যদি তাদের ভৌগোলিক সীমানা এবং অবকাঠামো আমাদের শত্রুরা ইরানি জাতির ওপর হামলার উদ্দেশে ব্যবহার করে, তবে তাদের মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদনকে বিদায় জানাতে হবে।'
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
হরমুজ 'পুরোপুরি বন্ধ' রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান খুলতে চাইছে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে চান, যাতে এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর ইরান কোনো কর আরোপ করতে না পারে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, 'ওরা (ইরান) চায় এই পথটি খোলা থাকুক যাতে তারা দিনে ৫০ কোটি ডলার আয় করতে পারে।' তিনি আরও দাবি করেন, 'ওরা কেবল বলছে যে ওরা এটি বন্ধ করতে চায়, কারণ আমি এটি পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছি। তারা কেবল নিজেদের মুখ বাঁচাতে এসব বলছে।'
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে রাজি হন, তবে ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে আর কখনোই কোনো সম্মানজনক চুক্তি করা সম্ভব হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ইরানের সাথে কখনোই কোনো চুক্তি হতে পারে না, যদি না আমরা তাদের দেশের বাকি অংশ এবং তাদের নেতাদের উড়িয়ে দিই।'
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক মিসাইল ও ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে গেছে
ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিল' এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের 'প্যাট্রিয়ট' আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইলের মজুতের প্রায় অর্ধেক শেষ করে ফেলেছে। এ ছাড়াও আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরির ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর একটি নতুন বিশ্লেষণের বরাতে দ্য হিল জানায়, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র আওতায় পরিচালিত এই বিশাল বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বর্তমানে কমে আসা সমরাস্ত্রের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে তা নিচে তুলে ধরা হলো:
- প্যাট্রিয়ট মিসাইল: মোট মজুতের প্রায় ৫০ শতাংশই শেষ হয়ে গেছে।
- থাড ইন্টারসেপ্টর: মোট তালিকার অর্ধেকেরও বেশি খরচ হয়ে গেছে।
- প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল: মোট মজুতের ৪৫ শতাংশের বেশি ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর বাতিল করল হোয়াইট হাউস
শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রস্তাবিত পাকিস্তান সফর বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির আশায় চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো বুধবার ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা ছিল ভ্যান্সের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই সফর বাতিল করা হলো।
বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজের বরাতে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'সশরীরে বৈঠকের বিষয়ে পরবর্তী যেকোনো আপডেট হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হবে।'
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত এলো। পাকিস্তানের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছেন, যাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা যায়। এর ফলেই আপাতত উচ্চপর্যায়ের এই সরাসরি বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা এই যুদ্ধ নিরসনে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত সাত সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, তিনি পাকিস্তানের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, 'ইরানের নেতা ও প্রতিনিধিরা যতক্ষণ পর্যন্ত একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে না পারছেন, ততক্ষণ দেশটির ওপর আমাদের আক্রমণ স্থগিত রাখতে আমি সম্মত হয়েছি।'
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ইরানের বন্দর ও উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর চলমান অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, এই অবরোধকে শুরু থেকেই 'যুদ্ধ ঘোষণা' হিসেবে অভিহিত করে আসছে ইরান। ট্রাম্পের এই ঘোষণা একপাক্ষিক কি না বা এতে মার্কিন মিত্র দেশ ইসরায়েল কিংবা ইরান একমত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট 'তাসনিম নিউজ' জানিয়েছে, ইরান কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেনি। তারা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে একটি 'চাল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো মূলত একটি আচমকা হামলার জন্য সময় বাগিয়ে নেয়ার কৌশল। ইরানের এখন পালটা উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।'
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব জমা না পড়া পর্যন্ত এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা যেকোনো এক দিকে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবেন।
তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি এই সাময়িক সমঝোতা চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার জন্য 'একেবারে প্রস্তুত' হয়ে আছে। সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আলোচনার টেবিলে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি 'চমৎকার চুক্তি' করতে সক্ষম হবে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে সফল করতে আমাদের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধটি সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।'
শরিফ আরও লিখেছেন, 'আমি আন্তরিকভাবে আশা করি উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকে একটি পূর্ণাঙ্গ 'শান্তি চুক্তি' স্বাক্ষর করতে সমর্থ হবে।'
তবে দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার সময়সূচী কবে ঠিক হবে, বা আদৌ আলোচনা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
