অ্যালুমিনিয়ামের ক্যান আটকে আছে উপসাগরে, ভারতে মিলছে না ডায়েট কোক
ইরান যুদ্ধের জেরে ভারতে ডায়েট কোকের সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটিতে এই পানীয় শুধু অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানে বিক্রি হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ক্যানের চালান আসতে দেরি হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশই হয় উপসাগরীয় অঞ্চলে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। ফলে অ্যালুমিনিয়ামের চালানগুলো ওই অঞ্চলেই আটকে আছে।
ভারতে বেশির ভাগ কোমল পানীয় প্লাস্টিকের বোতল ও ক্যানে বিক্রি হলেও, ডায়েট কোক কেবল ক্যানেই পাওয়া যায়। কোকাকোলার দুজন পরিবেশক বুধবার রয়টার্সকে জানান, যুদ্ধের কারণে ক্যান-সংকট দেখা দিয়েছে। তাই কোম্পানি ডায়েট কোকের সরবরাহ সীমিত করার (র্যাশনিং) বা কিছু অর্ডার বাতিল করার কথা জানিয়েছে।
সঞ্জয় নামের একজন পরিবেশক বলেন, 'আমরা অর্ডার দিচ্ছি, কিন্তু কোম্পানি বলছে যুদ্ধের কারণে সংকট চলছে।'
এ বিষয়ে কোকাকোলা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
পানীয় প্রস্তুতকারক এই বহুজাতিক কোম্পানির কাছে ভারত একটি বড় বাজার। ২০২৪-২৫ সালে দেশটিতে তাদের বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার কোটি রুপি (৫৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার), যা অন্তত ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ। ভারতে চিনিমুক্ত পানীয়ের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে কম চিনির খাবার ও পানীয়ের বাজার ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
সংশ্লিষ্ট খাতের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আমদানিকৃত ক্যানের চালান আসতে দেরি হওয়াই ডায়েট কোক সংকটের মূল কারণ। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে খোদ ভারতেই ক্যান ও বোতল তৈরির খরচ বেড়ে গেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, 'কিছু উৎপাদন চলছে, তবে পুরো চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরবরাহ সীমিত রাখা হয়েছে।'
উত্তর প্রদেশের মুদি দোকানদার আশিস সাক্সেনা বলেন, 'আগে ডায়েট কোক পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মধ্যেই ডেলিভারি পাওয়া যেত। কিন্তু কোম্পানি এখন কোক জিরো বিক্রির ওপর জোর দিচ্ছে। এটি প্লাস্টিকের বোতলে আসে এবং অন্যান্য পণ্যের তুলনায় এর দামও বেশ সাশ্রয়ী।'
এদিকে ডায়েট কোক না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করছেন অনেক গ্রাহক। ইনস্টাগ্রামে নানা ধরনের 'মিম' পোস্ট করে রসিকতাও করছেন তারা।
