বাড়াবে না বলেও রাশিয়ার তেল কেনায় ছাড়ের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেওয়া বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার গভীর রাতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট কয়েক দিন আগেই বলেছিলেন, এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। তবে, তার সেই বক্তব্যের কয়েক দিন পরই এই নতুন সিদ্ধান্ত এল।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র দাবি করেছে, 'ব্যাংক, আইএমএফ ও জি-২০ বৈঠকের ফাঁকে অংশীদার দেশগুলো এশিয়ায় চলমান চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানায়।'
মার্কিন অর্থ বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, 'আলোচনা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায়, প্রয়োজনীয় দেশগুলোর কাছে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় ট্রেজারি।'
উল্লেখ্য, রুশ তেল ক্রয়ে ছাড়ের মেয়াদ বারাতে মার্কিন অর্থ বিভাগ একটি নতুন সাধারণ লাইসেন্স ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ ও বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তবে ইরান, কিউবা এবং উত্তর কোরিয়া সংশ্লিষ্ট কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ছাড় কার্যকর হবে না।
এর আগে গত মার্চ মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর থেকে বিধিনিষেধ সরিয়ে নিয়েছিলেন। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবারের এই ছাড় এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তার এই ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যায়।
বিশ্ববাজারের তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত 'ব্রেন্ট ক্রুড' (অপরিশোধিত তেল)-এর দাম ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়ায়। এটি ১০ মার্চের পর সর্বনিম্ন মূল্য।
