ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে ৯ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান যুদ্ধের চলমান যুদ্ধবিরতি ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইসরায়েল, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে দ্রুত অস্ত্র হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং লেজার গাইডেন্স সিস্টেম দ্রুত পৌঁছে দিতে তিনি মার্কিন কংগ্রেসের নিয়মিত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্র চুক্তির মোট পরিমাণ প্রায় ৯০০ কোটি (৯ বিলিয়ন) ডলার।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের কাছে ৯৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার মূল্যের প্রায় ১০ হাজার 'অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২'বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 'বিএই সিস্টেমস' এই অস্ত্রগুলোর প্রস্তুতকারক।
কুয়েতকে ২৫০ কোটি ডলার মূল্যের 'ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম' এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান কর্পোরেশন, আরটিএক্স কর্পোরেশন এবং লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন।
এছাড়া কাতারের কাছে ৪০১ কোটি ডলার মূল্যের ২০০টি 'প্যাট্রিয়ট অ্যাডভান্সড ক্যাপাবিলিটি-২' ইন্টারসেপ্টর এবং ৩০০টি 'পিএসি-৩ মিসাইল সেগমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট' ইন্টারসেপ্টরসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়টিও অনুমোদন করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। লকহিড এবং আরটিএক্স এই ক্রয়ের প্রধান ঠিকাদার।
পৃথক আরেকটি চুক্তিতে কাতারকে ৯৯ কোটি ২৪ লাখ ডলারের বিনিময়ে ১০ হাজার এপিকেডব্লিউএস-২সমরাস্ত্র কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের একই ধরণের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও অনুমোদিত হয়েছে।
সবগুলো বিক্রয় প্রস্তাবের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তি দিয়েছেন যে, বর্তমানে এমন এক 'জরুরি অবস্থা বিদ্যমান যার জন্য এই অস্ত্রগুলোর তাৎক্ষণিক বিক্রয় প্রয়োজন' এবং এই দ্রুত হস্তান্তর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি।
সাধারণত, যে কোনো দেশের কাছে সমরাস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের একটি নির্দিষ্ট পর্যালোচনা সময়কাল পার করতে হয়। এছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতার আলোচনার মাধ্যমে দাম ও পরিমাণ চূড়ান্ত করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত মার্চের পর দ্বিতীয়বারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের জন্য কংগ্রেসকে এড়িয়ে এই বিশেষ অনুমোদন দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় পুনরায় আকাশপথে হামলা শুরু হতে পারে বলে ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
