ইরানের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক 'হাইপারসনিক' ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের সেনাবাহিনীর 'ডার্ক ঈগল' নামক এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি সেখানে পাঠানোর জন্য আবেদন করেছে। ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।
যদি এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, তবে এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন। রাশিয়া এবং চীন ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলেও মার্কিন এই প্রকল্পটি অনেকদিন ধরেই পিছিয়ে ছিল। এটি এখনো পুরোপুরি সচল হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান 'প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল'-এর সীমার বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমান মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৩০০ মাইল পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারলেও ইরানের নতুন অবস্থানগুলো এর চেয়েও গভীরে। এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন দেখছে সেন্টকম।
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের তোড়জোড় ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র যেন পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতির সময়ে উভয় পক্ষই নতুন করে অস্ত্রসজ্জা এবং পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতের সংঘাত আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা রাশিয়ার ও চীনের মতো প্রতিপক্ষ দেশগুলোকেও একটি কড়া বার্তা দেবে—যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তাদের সমকক্ষ হতে পেরেছে।
'ডার্ক ঈগল' বা 'লং-রেঞ্জ হাইপারসনিক ওয়েপন' (এলআরএইচডাব্লিউ) ১,৭২৫ মাইলের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে জানা গেছে। এটি শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে উড়ে যেতে পারে এবং অত্যন্ত দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে পারে। এর ফলে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটি প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব।
ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত চীন বা রাশিয়ার মতো দেশের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে। একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাতে জানা গেছে, প্রতিটি লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা আটটির বেশি নয়।
মার্কিন সরকারি জবাবদিহিতা দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিটি ব্যাটারির খরচ প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তার স্টেলথ জেএএসএসএম-ইআর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে, যা সমতুল্য শক্তির প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এখন পর্যন্ত সংঘাতে প্রায় ১,১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, কিছু এলাকায় তাদের আকাশে আধিপত্য রয়েছে—অর্থাৎ ইরানের কিছু অংশে তাদের যুদ্ধবিমানগুলো তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্তভাবে অভিযান চালাতে পারছে। তবে এখন পর্যন্ত ডজনের বেশি এমকিউ-৯ ড্রোন এবং কয়েকটি মানবচালিত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এগুলো ইঙ্গিত করে, ইরানের আকাশসীমার কিছু অংশ এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
