নবজাতকদের বাঁচাতে প্রয়োজন জ্বালানি, ওষুধ; অথচ গাজা সয়লাব করে ফেলা হচ্ছে চকলেট পাঠিয়ে
অবরুদ্ধ গাজাতে জ্বালানি, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর বদলে পাঠানো হচ্ছে চকলেট ও কোমল পানীয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শ এ তথ্য জানিয়েছেন।
আল-বার্শ দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির আড়ালে চলমান অনাহার ও হত্যাযজ্ঞ ঢেকে রাখার জন্যই এমনটা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'গাজায় যা ঢুকছে তা তেমন কোনো ত্রাণ নয়; বরং মৃত্যুকে নিয়ে এক নিষ্ঠুর উপহাস।'
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা এক কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছেন। ইনকিউবেটরে থাকা শিশুদের বাঁচিয়ে রাখতে বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে কোনো জ্বালানি নেই। আর বাইরে থেকে যে ত্রাণ আসছে, তা দিয়েও এই শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।
আল-বার্শ বলেন, 'জেলিভর্তি ট্রাক আসছে; অন্য ট্রাকে আসছে চকলেট। কোমল পানীয় এমনভাবে আসছে, যেন এগুলোই জীবন রক্ষাকারী উপাদান। কিন্তু ইনকিউবেটর সচল রাখার জন্য যে জ্বালানি দরকার, তা এখনো নিষিদ্ধ।'
এসব ত্রাণের তেমন কোনো মূল্য নেই উল্লেখ করে আল-বার্শ বলেন, ইনকিউবেটর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা যে শিশুটি শ্বাস নেওয়ার জন্য লড়াই করছে, তার কাছে এসব চকলেটের কোনো অর্থ নেই। মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা একজন মায়ের কাছেও 'ক্যালরি'র কোনো মূল্য নেই। কারণ, সেই মনিটর যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আর সেই সঙ্গে কেড়ে নিতে পারে তার সন্তানের প্রাণ।
আল-বার্শ দাবি করেন, এটি একটি 'পরিকল্পিত নকশা', যার মাধ্যমে এই বিপর্যয়কে আরও ভয়াবহ করে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'জীবন বাঁচানোর জরুরি উপকরণগুলো আটকে রেখে গাজায় অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাঠানো হচ্ছে... এটি কোনো ত্রাণ সহায়তা নয়, বরং একটি নীরব নিধনযজ্ঞ।'
