সীমিত পরিসরে আবারও খুললো গাজার রাফাহ সীমান্ত
সীমিত পরিসরে আবারও খুলেছে গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গাজা ও মিসরের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পথটি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সীমিতভাবে চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ফিলিস্তিনে গাজা ও মিসরের মধ্যবর্তী রাফাহ ক্রসিংই একমাত্র সীমান্ত পথ, যা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত নয়।
গাজার বাসিন্দাদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে রাফাহ ক্রসিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অক্টোবরে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তার শর্তের অংশ হিসেবেই এই সীমান্ত পথ পুনরায় খোলা হয়েছে।
তবে ক্রসিংটি পুরোপুরি চালু হয়নি; যাতায়াত চলবে সীমিত পরিসরে। জানা গেছে, ইসরায়েল ও মিসর এই সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করবে। একই সঙ্গে গাজায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির শর্ত আরোপ করবে ইসরায়েল।
রয়টার্সের বরাতে এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাফাহ ক্রসিংয়ে ইউরোপীয় পর্যবেক্ষক দল পৌঁছেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্ডার অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন (ইইউবিএএম) ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিনি অংশের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। গাজা ছাড়তে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নাম ও তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যের তালিকা তারা নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য মিসরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, একইভাবে গাজায় প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিদের নামের তালিকা মিসরীয় কর্তৃপক্ষ জমা দেবে। নিরাপত্তা যাচাই শেষে পরদিন তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে এক মিসরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্রসিং পুনরায় চালুর প্রথম দিনে উভয় দিক দিয়ে ৫০ জন করে ফিলিস্তিনি যাতায়াত করবেন।
টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, মিসর থেকে গাজায় প্রবেশকারী ফিলিস্তিনিদের জন্য রাফাহ ক্রসিংয়ের বাইরে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী 'রেগাভিম' নামে একটি চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে।
রেগাভিমে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনারা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার অনুমোদিত তালিকার সঙ্গে আগতদের পরিচয় মিলিয়ে দেখবেন এবং তাদের মালামাল কঠোরভাবে তল্লাশি করবেন।
